পাকা ধানে মই দিয়ে গেল কালবৈশাখী

প্রবল বৃষ্টিতে পানিতে ডুবে আছে মাঠে কেটে রাখা ধানের পাজা
কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় উপজেলা বাগেরহাটের শরণখোলা। আজ বুধবার সকাল ১০টার পর থেকে শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে প্রবল বেগে ঝড় ও বৃষ্টি। দমকা বাতাস ও থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হতে দেখা গেছে বিকালেও। কালো মেঘে ছেয়ে আছে উপকূলের পুরো আকাশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝোড়ো বাতাসে মাটির সঙ্গে মিসে গেছে শত শত বিঘা জমির পাকা-আধাপাকা বোরো ধান। ঝড়ে উপজেলার সর্বত্র বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। বিধ্বস্ত হয়েছে বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি। এ ছাড়া বজ্রপাতে মৃত্যু হয়ে একটি গবাদিপশুর। বিশেষ করে মাঠের বোরো ধান, সূর্যমুখী ও ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছেন, মাঠ পরিদর্শনে রয়েছেন তাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে কী পরিমাণ ফসল নুইয়ে পড়েছে বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, জানা যাবে তা। তবে মাঠের জলাবদ্ধতা যদি স্থায়ী হয়, তাহলে পচন ধরার আশঙ্কা রয়েছে বোরো ধানে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা জানিয়েছেন, পাক ধরেছে তাদের বেশিরভাগ জমির ধানে। অনেকে ধান কেটে পাজা করে রেখেছেন মাঠে। সেই কাটা ধানও তলিয়ে গেছে পানিতে। বহু চাষির জমির ধান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে প্রবল বাতাসে। এলাকার বাইরে থেকে ধান কাটা শ্রমিক এনেও দুর্যোগে পড়ে ধান কাটতে পারছেন না অনেকে। মাঠের পানি দ্রুত না টানলে ব্যাপক লোকসানে পড়তে হবে চাষিদের।
শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকারের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে শরণখোলা উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে বোরো ধানের। এ ছাড়া ১৪০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ও ৯৫ হেক্টরে হয়েছে ভুট্টার চাষ। বর্তমানে কাটার উপযোগী হয়েছে জমির ৭৫ শতাংশ ধান। কিন্তু হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে পাকা ধান কাটতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হবে চাষিদের।
কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, ঝড়ে পাকা-আধাপাকা ধান মাটিতে নুইয়ে পড়ার খবর জানিয়েছেন এলাকার চাষিরা। এসব তথ্য সংগ্রহে এবং ফসল রক্ষায় সঠিক পরামর্শ প্রদানের জন্য মাঠে পাঠানো হয়েছে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের। তা ছাড়া ফসলের মাঠের জমে থাকা পানি নামানোর জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে। পরিদর্শন শেষে সঠিক তথ্য জানা যাবে এ ব্যাপারে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শরণখোলা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম জাহিদ রেজা জানালেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাগেরহাটের ৩৩ কেভি লাইন। এ ছাড়া উপজেলার অভ্যন্তরে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, চেক করা হচ্ছে তা। তবে কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে সঠিক বলা যাচ্ছে না।



