‘বর্তমান মজুরিতে জীবন চলে না’

মৌলভীবাজারে লেবার হাউসের হলরুমে চা শ্রমিক ইউনিয়নের সংবাদ সম্মেলন— সংগৃহীত
চা শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত বার্ষিক ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) প্রত্যাহার, নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানসম্মত মজুরি নির্ধারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল শহরের মৌলভীবাজার সড়কের লেবার হাউসের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, মনু-ধলাই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউড়ি ও সম্পাদক নির্মল পাইনকা, সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা, লংলা ভ্যালির সভাপতি সাঈদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জেসমিন আক্তারসহ বিভিন্ন ভ্যালির নেতারা। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বাংলাদেশ চা বোর্ডের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে ১৭৮টি চা বাগানে প্রায় এক লাখ নিবন্ধিত এবং ৫০ হাজারের বেশি অনিবন্ধিত শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৫৩ একর জমিতে বিস্তৃত এই শিল্পে প্রজন্মের পর প্রজন্ম শ্রম দিয়ে এলেও শিক্ষা, দক্ষতা, বিকল্প জীবিকা, ডিজিটাল সক্ষমতা, সামাজিক সুরক্ষা ও বাজারসংযোগের ক্ষেত্রে চা শ্রমিকরা এখনো পিছিয়ে রয়েছেন। চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাই বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কাজের পরিবেশ, ঝুঁকি ও শ্রমের প্রকৃতি বিবেচনায় দ্রুত নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যমান ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট প্রত্যাহার করে বর্তমান বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন মজুরি কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানান তারা।
নেতারা আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চা জনগোষ্ঠীর জন্য একটি চা শ্রমিক উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, চা শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য ও মানসম্মত মজুরি নির্ধারণ এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়।







