মাধবপুর
বনপ্রহরীকে কুপিয়ে জখম, মামলা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের মাধবপুরে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বনপ্রহরী শেখ আহম্মদ আলী (৫৪)। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মাধবপুর থানায় মামলা হয়েছে। আহত বনপ্রহরী বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবার বিকালে আহম্মদ আলী ও তার সহকর্মী কালাম তেলমাছড়া বিট এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। সাড়ে ৪টার দিকে তারা সুরমা চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে সংগ্রহ করা ‘তারগোটা’ বনজ ফল নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। বনকর্মীরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে চুনারুঘাট উপজেলার নোয়াবাদ এলাকার আব্দুল খায়ের (৩৫), আব্দুল আজিজ (৪৫), আলাউদ্দিনসহ আরও কয়েকজন বনকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা দা দিয়ে আহম্মদ আলীর মাথায় কোপ দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার হাত, কবজি ও কনুইয়েও গুরুতর আঘাত লাগে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানালেন, গত কয়েক মাস ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাতছড়ি, তেলমাছড়া ও রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চলে সক্রিয়। তারা বনজ সম্পদ চুরি ও পাচারের চেষ্টা করছে। বন রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বনকর্মীরা বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন। বনজ সম্পদ সুরক্ষায় টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার সকালে তেলমাছড়া বনাঞ্চল পরিদর্শন শেষে মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আবুল কালাম মন্তব্য করেন, বনজ সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বন ধ্বংস, দখল বা পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত।





