প্রান্তিক প্রচেষ্টা
খেজুরের আঁটি থেকে কফি

অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুরগাছের আঁটি। আর সেটি থেকে তৈরি হচ্ছে কফি। এমন ঘটনাই ঘটেছে ঝিনাইদহে। উদ্ভাবক আহসান ইসলাম শাহিন। সেই কফি এখন যাচ্ছে বিদেশেও। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশ ও বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খেজুরের আঁটি থেকে পানীয় কফি তৈরি দেশে প্রথম। সুস্বাদু এই পানীয়ের চাহিদাও বাড়ছে দিন দিন। অন্যদিকে খেজুরের আঁটির গুণাগুণ মানবদেহের জন্য উপকার— দাবি উদ্ভাবকের। ঢাকায় ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শেষে বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন শাহিন। সেই চাকরি ছেড়ে ঝিনাইদহের সদর উপজেলার জাড় গ্রামে ৪৩ শতাংশ জমিতে গড়ে তোলেন ছোট খামারবাড়ি। সেখানে কৃষি উদ্ভাবনের নানা দিক নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
দুই বছর আগে নিজের খামারবাড়িতে দেশি খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন শাহিন। বীজের আঁটি সাধারণত পাখি খায় বা গাছের নিচে পড়ে থাকে। সেই আঁটি ধুয়ে প্রথমে রোদে শুকান। এরপর বালুভর্তি কড়াইয়ে ভেজে ব্লেন্ডারে গুঁড়া করেন। এরপর সেটিই হয়ে ওঠে কফি। কফির স্বাদ ও সুঘ্রাণ অনন্য।
শাহিনের দাবি, এই কফি নিজে পরীক্ষামূলকভাবে পান করেছেন। প্রতিবেশীদেরও পান করিয়েছেন। ধীরে ধীরে এলাকা থেকে পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়লে বাজারজাত শুরু করেন তিনি। বিএসটিআইয়ের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে তার এই কফির সরকারি অনুমোদন।
শাহিনের দেওয়া তথ্য, তার তৈরি কফির ছোট প্যাকেটের ১৫০ এবং বড়টির মূল্য ৩০০ টাকা। এরই মধ্যে দেশ-বিদেশেও এ কফি বাজারজাত করেছেন। তার দাবি, এটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে বিদেশে বাজারজাত করতে প্রস্তুত তিনি। স্থানীয় গ্রামবাসী আবদুল কাদের, গণি বিশ্বাসের ভাষ্য, গবেষণা করে খেজুরের আঁটি থেকে কফি তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন শাহিন। তার কফি অনেক সুস্বাদু। শরীরের জন্যও ভালো।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নূর-এ-নবী জানালেন, শাহিনের তৈরি কফি জেলায় সাড়া ফেলেছে। খেজুরের বীজে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিজেন, ফাইবার ও খনিজ পদার্থ। এটি শরীরের জন্য উপকার। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শাহিনকে সব সহযোগিতা করা হচ্ছে।




