গঙ্গাচড়া
চাঁদা না দেওয়ায় আমবাগানে শতাধিক চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক কৃষি উদ্যোক্তার আমবাগানে ঢুকে শতাধিক চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি গাছের আগাও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে বাগান মালিককে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চর জয়রামওঝা চল্লিশ সাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে কেয়ারটেকারের কাছ থেকে খবর পেয়ে বাগানে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান ‘সীমান্ত এগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজ’র স্বত্বাধিকারী রবিউল ইসলাম।
রবিউল ইসলামের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে নতুন কেনা ৮৪ শতক জমি দখলের চেষ্টা করছেন স্থানীয় খোকা মিয়া, তার ছেলে সোনা মিয়াসহ কয়েকজন। জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে তারা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে গাছ কেটে ফেলা ও পুকুরে বিষ প্রয়োগের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সকালে বাগানে গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের খবর দেন। সাংবাদিকেরা সেখানে ভিডিও ধারণের সময় খোকা মিয়া, সোনা মিয়া, মানিকা বেগমসহ কয়েকজন আসেন। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
রবিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আরমানের মদতে গাছের চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে। তবে আরমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার জেঠো মহুবর রহমান ঘটনায় জড়িত থাকায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। মহুবর রহমানও বলেন, আরমান তার জন্য সেখানে যাননি।
এ ঘটনায় রবিউল ইসলাম গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে তিনি নিজেও সেখানে যান। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
গঙ্গাচড়া উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহিন আলম সোনা আগামীর সময়কে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুর ছবুর বলেন, ‘আগের অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। নতুন ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




