আগৈলঝাড়া
মৌসুমী ব্যবসায় ভাগ্য বদল

ছবি: আগামীর সময়
আষাঢ় শ্রাবণ মাস আসলেই ব্যস্ততা বাড়ে বরিশালের আগৈলঝাড়ার নৌকা তৈরির কারিগরদের। হাতে সময় কম তাই রাত-দিন নৌকা তৈরির কাজে দম ফেলার সময় নেই এখানকার মৌসুমি কারিগরদের। এখানে তৈরি করা নৌকাগুলোর কাঠ, সরঞ্জামাদিসহ আকার ভেদে বিক্রি করা হয় ৪ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর এসব নৌকা কিনতে ভিড় জমায় আশ পাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ।
বর্ষার আগমনে খালে বিলে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় নৌকার চাহিদা। তাইতো আষাঢ় শ্রাবণ মাসের বর্ষার মৌসুমে ভোর হতেই শুরু হয় নৌকা তৈরির জন্য কারিগরদের পেরেক মারার খট খট শব্দ। কেউ নৌকার কাঠ কাটতে বা চেড়াই করতে ব্যস্ত কেউবা নৌকার কাঠের তলা বিছানো নিয়ে রয়েছেন মগ্ন।
হাতে সময় কম তাই রাত-দিন নৌকা তৈরির কাজে দম ফেলার সময় নেই বরিশালের আগৈলঝাড়ার নৌকা তৈরির মৌসুমি কারিগরদের। চাহিদা বেশি থাকায় দিনভর আপন মনে কাজ করে চলেছে নৌকা তৈরির কারিগররা। রাতদিন একটানা কাজ করেও চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছেন এই অঞ্চলের নৌকা তৈরির কারিগরেরা। সারা বছর চাহিদা কম থাকলে প্রতি বছর আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস আসলেই চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুন। তবে গতবছরের তুলনায় এ বছর নৌকা তৈরির কাঠ ও অন্যান্য সরঞ্জামের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় নৌকা তৈরির কারিগর আর্থিকভাবে লাভবান না হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। এক একটা নৌকা তৈরিতে সময় লাগে দুই থেকে তিন দিন। এখানে তৈরি করা নৌকাগুলোর কাঠ, সরঞ্জামাদিসহ আকার ভেদে বিক্রি করা হয় ৪ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর এসব নৌকা কিনতে ভিড় জমায় আশ পাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ। প্রতি বছর মৌসুমি ব্যবসা হিসেবে এ কাজের সাথে যুক্ত রয়েছে উপজেলার ঐচারমাঠ, সাহেবের হাট, বারপাইকা, আস্কর, বাহাদুরপুর, বাট্রা, কোদালধোয়া, পয়সার হাট, বাশাইলসহ বিভিন্ন এলাকার দুই শতাধিক পরিবার।
নৌকা তৈরির কারিগর রঞ্জিত বাড়ৈ, যোগেশ মন্ডল, তপন রায়, যতিশ মধু জানান, তারা মূলত কাঠমিস্ত্রি হলেও শুকনা মৌসুমে গ্রামে কাঠের ঘর তোলার কাজ করেন। আর বর্ষাকালে নৌকা তৈরি করে পাইকার অথবা বাজারে বিক্রি করেন। তবে সারা বছর কম-বেশি চাহিদা থাকলেও বর্ষা মৌসুমে নৌকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত কিছু আয়ের আশায় নৌকা তৈরি করেন তারা। আকার ভেদে এক-একটি নৌকা তৈরিতে সময় লাগে দুই থেকে তিন দিন। নৌকা তৈরির পর সেগুলো স্থানীয় হাটে বিক্রির জন্য নেওয়া হয়। সেখানে আকার ভেদে বিক্রি হয় নৌকাগুলো।
তারা আরো জানান, এ বছর বর্ষায় খাল-বিলে পানি বেশি হওয়ার নৌকার চাহিদা একটু বেশি। এ চাহিদা থাকবে ভাদ্র মাসের শেষ পর্যন্ত। বেশিরভাগ সময় পাইকাররা নৌকা কিনে নিলেও একটু বেশি লাভের আশায় অনেক সময় নিজেরাই হাটে নিয়ে নৌকা বিক্রি করেন তারা। নৌকা তৈরি করে অনেকেই বালো আছেন তারা।
স্থানীয় পাইকার জহির হোসেন, পরিতোষ ঘরামী, স্বপন বেপারী জানান সরাসরি কারিগরদের কাছ থেকে নৌকা কিনে তা হাটে বিক্রি করেন তারা। একটা নৌকা তিন হাজার টাকা বা পয়ত্রিশ শ টাকায় কিনে তিন-চার শ টাকা লাভে বিক্রি করেন। তবে চাহিদা বেশি থাকলে লাভ একটু বেশি হয়।
আর নৌকা কিনতে আসা লোকজন রাসেল শিকদার, জুম্মান হাওলাদার, রফিজ উদ্দিন, নয়ন বাছার, সুজয় বৈদ্য জানান, খালে বিলে পানি থাকায় যাতায়াত, গবাদি পশুর খাবার ও মাছ চাষের জন্য ব্যবহার করতে এখানকার তৈরি করা নৌকার মান ভালো হওয়ায় প্রায় প্রতি বছরই নৌকা কিনে থাকেন তারা।






