উজিরপুর
জ্বালানির দাম বাড়তেই নিত্যপণ্যে উত্তাপ

সংগৃহীত ছবি
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বরিশালের উজিরপুরে নিত্যপণ্যের বাজারে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, ডিম, দুধ ও সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। এতে বাড়তি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ।
ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় এবং পাইকারি বাজারে পণ্য আনার খরচ বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে কোনো কোনো ব্যবসায়ী পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
সরেজমিন গতকাল শুক্রবার উজিরপুর পৌর বাজার, বামরাইল, গুঠিয়া, ধামুরা ও শিকারপুরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ভিড়। তবে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে কেনাকাটা করতে পারছেন না অনেকে। এক দোকান থেকে আরেক দোকানে গিয়ে দাম যাচাই করছেন ক্রেতারা। একই পণ্য দোকানভেদে ভিন্ন দামে বিক্রি হওয়ায় অনেককে দরদাম করতেও দেখা যায়।
বাজারের ব্যবসায়ী আরব দার নিখিল বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর মালামাল পরিবহনের খরচ বেড়েছে। মোকাম থেকে পণ্য আনতে এখন আগের চেয়ে বেশি টাকা লাগে। ফলে কেনা দামও বেড়েছে।
আরেক ব্যবসায়ী মিলন বলেন, পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। এর সঙ্গে গাড়িভাড়াও বেড়েছে। সব মিলিয়ে আগের দামে পণ্য বিক্রি করা কঠিন।
তবে ব্যবসায়ীদের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, কিছু পণ্যের দাম তার চেয়ে বেশি বাড়ানো হচ্ছে। একই পণ্য বিভিন্ন দোকানে ভিন্ন দামে বিক্রি হওয়ায় তাদের মধ্যে এ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
বাজারে পণ্য কিনতে আসা ভ্যানচালক সুমন বলেন, আয় বাড়েনি, কিন্তু বাজার খরচ বেড়েছে। গাড়ি চালিয়ে যে টাকা আয় করি, তার বড় অংশ এখন সংসারের বাজারেই চলে যাচ্ছে। সবকিছুর দাম একসঙ্গে বাড়লে সংসার চালানো কঠিন।
সবজি কিনতে আসা মাসুদ বলেন, প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন দাম শুনতে হচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, সবজির দাম বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের হিসাব মেলে না। এখন প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনতে হচ্ছে।
ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়তি দামের কারণে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। অনেকে মাছ-মাংসের পরিমাণ কমিয়েছেন। কেউ কেউ ডিম, দুধসহ পুষ্টিকর খাবারও আগের তুলনায় কম কিনছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, কোনো পণ্যের প্রকৃত ক্রয়মূল্য, পরিবহন ব্যয় ও খুচরা বিক্রয়মূল্যের মধ্যে কতটা পার্থক্য রয়েছে, তা জানার সুযোগ তাদের নেই। ফলে দোকানিরা যে দাম বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই সেই দামেই পণ্য কিনতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়িভাড়ায় সীমাবদ্ধ নয়। মোকাম থেকে পণ্য পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারে এর কিছুটা প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।
তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে কতটা এবং এর বাইরে কতটা পণ্যের দাম বেড়েছে—এ নিয়ে স্পষ্ট হিসাব না থাকায় বাজারে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ক্রেতাদের দাবি, নিয়মিত বাজার তদারকির পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা দামের পার্থক্য যাচাই করা হোক। প্রতিটি দোকানে মূল্যতালিকা টাঙানোর বিষয়টি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, বাজারে পণ্যের দাম নিয়ে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। কেউ অযৌক্তিকভাবে বেশি দাম নিচ্ছেন কি না, তা দেখা হবে। মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও ভোক্তাদের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ব্যয় বেড়েছে—এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয় পক্ষই একমত। তবে সেই বাড়তি ব্যয়ের কতটা নিত্যপণ্যের দামে যুক্ত হয়েছে আর কতটা অতিরিক্ত মূল্য হিসেবে ভোক্তার কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে, সেটিই এখন উজিরপুরের বাজারে বড় প্রশ্ন।



