শরণখোলা
আগুনে পুড়ে অঙ্গার বিধবা সুমীর স্বপ্ন

ছবি: আগামীর সময়
এনজিও থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ছোট্ট একটি দর্জির দোকান করেছিলেন বিধবা সুমী বেগম। সেলাই মেশিনে তৈরি করতেন নারী ও শিশুদের পোশাক। তা থেকে যা আয় হতো, তা দিয়ে চলত তিনজনের সংসার। স্বপ্ন ছিল দোকানটি একসময় আরো বড় হবে। দোকানের আয় থেকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করবেন তার দুটি সন্তানকে। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন-আশা আজ পুড়ে হয়েছে অঙ্গার।
ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে সুমীর দোকান বাদেও পুড়ে যায় আরো চারটি দোকান। শনিবার (৬ জুন) ভোররাতে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটনা।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল। কেউ বলছে মশার কয়েলের আগুন থেকে, আবার কেউ বলছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে যেভাবেই আগুন লাগুক না কেন এতে ক্ষয়ক্ষতি হয় ১০ লক্ষাধিক টাকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাত সাড়ে ৩টা-পৌনে ৪টার দিকে নয়ন শিকদারের দোকান থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এ সময় বাজারের পাশের বাসিন্দারা টের পেয়ে ছুটে আসেন সেখানে। তারা বিভিন্নভাবে আগুনের কবল থেকে দোকানগুলো বাঁচানোর চেষ্টা করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই মধ্যে পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বাজারটিতে রয়েছে অর্ধ শতাধিক বিভিন্ন দোকানপাট।
বিধবা সুমী বেগমের ভাষ্য, ১২ বছর ধইরা আমার স্বামী নাই। দুইডা পোলা (ছেলে) আমার। সেই থেইকা পোলা দুইডারে লইয়া অনেক কষ্টে দিন কাডাইছি। কয় মাস আগে স্বপ্ন-২ নামের একটা এনজিও দিয়া ৪০ হাজার টাহা লোন নিয়া বাজারে দর্জির দোকান দিছি। আশা ছিল আস্তে আস্তে দোকান বড় করমু, পোলা দুইডারে লেহাপড়া করাই মানুষ বানামু। কিন্তু আমার সব স্বপ্ন-আশা পুইড়া শ্যাষ ওইয়া গ্যাছে। আমি অ্যাহন এনজিওর লোন ক্যামনে শোদ করমু, কি খামু! কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমী। তিনি সহযোগিতা চেয়েছেন সবার।
স্থানীয় গাবতলা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু হানিফ ফকির মনে করেন, নয়ন শেখের ঘরে বসে রাত জেগে কিছু ছেলেপেলে টিভিতে খেলা দেখেছে। খেলা শেষে চলে যাওয়ার পর তাদের জ্বালিয়ে রাখা মশার কয়েল থেকে আগুন লেগেছে। শত্রুতা করে কেউ আগুন লাগায়নি।
সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল আলম লিটন বললেন, যাদের দোকান পুড়েছে তারা সবাই দরিদ্র। ঋণ ও ধার-দেনা করে ব্যবসা শুরু করেছেন। তারা সবাই নিঃস্ব হয়ে গেছেন। বিশেষ করে বিধবা সুমী বেগম বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন। তার এই ব্যবসাটুকুই ছিল শেষ সম্বল।
শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতা-ই আলম জানালেন, ধারণা করা হচ্ছে শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুন লেগেছে। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় গাড়ি নিয়ে যেতে সময় লাগে। পরে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তদের।






