সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার প্রত্যয় এমপি আশরাফের

রায়পুরা কেন্দ্রীয় হিন্দু মিলন মন্দিরে পূজামণ্ডপে বক্তব্য দিচ্ছেন এমপি আশরাফ উদ্দিন বকুল
নরসিংদীর রায়পুরায় ৬৫টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। উৎসবকে সামনে রেখে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এর মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।
আজ বুধবার রায়পুরা কেন্দ্রীয় হিন্দু মিলন মন্দিরে পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ অর্থ বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বকুল বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশ গড়ব যেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সামনের সারিতে থাকবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রায়পুরা কেন্দ্রীয় হিন্দু মিলন মন্দিরের সভাপতি সবুজ নন্দি। সাধারণ সম্পাদক বিজয় পালের সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফায়জুর রহমান, পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুস, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ও নাজমুল হক ভূঁইয়া মোহনসহ অনেকে।
এদিকে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে রায়পুরার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির মূল কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এখন চলছে রংতুলির শেষ আঁচড়। এরপর দেবীকে পরানো হবে শাড়ি, গহনা ও নানা অলংকার। উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। দিনরাত কাজ করে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমায় শেষ ছোঁয়া দিচ্ছেন তারা। অন্যদিকে মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও সার্বিক প্রস্তুতি তদারকিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা।
এবার উপজেলার বেশ কয়েকটি মণ্ডপে থাকছে বিশেষ থিমের আয়োজন। গ্রামীণ আবহ ও সনাতন ঐতিহ্যের সমন্বয়ে সাজানো হচ্ছে এসব মণ্ডপ। কোনো কোনো মণ্ডপে বাঁশ, বেত, পাট ও মাটির মতো প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব প্যান্ডেল। পাশাপাশি পৌরাণিক স্থাপত্য ও সনাতন লোকজ সংস্কৃতির আদলে মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। এসব আয়োজন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিয়মিত টহল দেবেন।



