যারা দেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে তারা জনগণের সঙ্গেও বেইমানি করবে: সোহেল

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। ছবি: আগামীর সময়
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেছেন, ‘একবার দেশের সঙ্গে যারা বেইমানি করেছে, যতবার সুযোগ পাবে, ততবারই তারা জনগণের সঙ্গে বেইমানি করবে।’
আজ সোমবার বিকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে হাবিব উন নবী খান সোহেল বললেন, বিএনপি যে ব্যক্তিকে সম্মান দিয়েছে, তার নিজ এলাকার মানুষও তাকে সম্মান জানাবে বলে তিনি আশা করেছিলেন। রাষ্ট্রপতির এলাকার আসনে অন্য কোনো দল প্রার্থী দেবে না বলে ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী মির্জা ফয়সল আমীনের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছে, যা দুঃখজনক।
জামায়াতে ইসলামীর পোশাক-পরিচ্ছদ ও বক্তব্যের সঙ্গে তাদের অতীত ভূমিকার তুলনা করে সোহেল মন্তব্য করেন, দলটির নেতারা এখন সুন্দর সুন্দর কথা বলছেন। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা ভুলে গেলে চলবে না। তার অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধাদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া এবং নারীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার পেছনে জামায়াতের লোকজনের ভূমিকা ছিল।
ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বললেন, একজন মানুষ তার জীবনে খুব বেশি হলে ১০-১২ বার ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। তাই এই মূল্যবান ভোট কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার ভাষায়, ‘আপনি কি রাজাকারকে ভোট দেবেন, নাকি প্রেসিডেন্টকে ভোট দেবেন— সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।’
সোহেল আরও বললেন, ভবিষ্যতে দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে জামায়াতে ইসলামী অন্য দেশের পক্ষ নিয়ে দেশের বিরুদ্ধে কাজ করবে। এ বিষয়ে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সোহেল মত দেন, এলাকার রাস্তাঘাট, মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সঠিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতির এলাকার মানুষ হিসেবে ভোটারদের বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, মির্জা ফয়সল আমীন নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সোহেল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বিমানবন্দর, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও স্পোর্টস ভিলেজের প্রসঙ্গ টানেন। তার দাবি, গত সাত-আট মাসে এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। এলাকার উন্নয়নে আরও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জামায়াতে ইসলামীর লং মার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বললেন, বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি সংকটের মধ্যে হাজার হাজার লিটার তেল খরচ করে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তার মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের কর্মসূচি দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি না করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সহসভাপতি আবু হায়াত নূর নবী, মহেবুল্লাহ আবু নুরসহ স্থানীয় নেতারা।




