ফার্মেসিতে ডেকে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ‘জামায়াতকর্মীর’ বিরুদ্ধে

অভিযুক্ত মো. হেলাল উদ্দিন
নোয়াখালীতে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফার্মেসিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মো. হেলাল উদ্দিন (৪২) নামে ‘জামায়াতকর্মীকে’ পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
আটক হেলাল উদ্দিন ওরফে হেলাল মাস্টার হরণী ইউনিয়নের বেলায়েত খলিফার ছেলে। তিনি ওই এলাকার বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলাল উদ্দিন আগে স্থানীয় আদর্শ গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। দুই থেকে তিন বছর আগে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে দেন।
পুলিশ জানায়, রবিবার সকালে হেলাল উদ্দিন কৌশলে ৯ বছর বয়সী ওই শিশুকে তার ফার্মেসিতে ডেকে নেন। পরে দোকানের পেছনের অংশে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি টের পেয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী টিনের ভাঙা অংশের একটি ছিদ্র দিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন হেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি দোকান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে গত ৪ আগস্ট একই এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে বিচার বসানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫০টি বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয় বলে তারা জানান।
স্থানীয়রা জানান, হেলাল উদ্দিন একসময় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তাকে জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। সেই থেকে সবাই জানে তিনি জামায়াতকর্মী।
তবে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেছেন, ‘হেলাল জামায়াতের কোনো কর্মী নন। তিনি আগে যুবলীগ করতেন। নিজেকে বাঁচাতে ৫ আগস্টের পর একটি বড় মিছিলে তিনি ঢুকে যান।’
চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন রাসেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে স্থানীয়দের আটক করা অভিযুক্তকে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বজনরা হাতিয়া থানায় মামলা করবেন।’
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করবেন। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।







