টানা বৃষ্টিতে রামুতে জলাবদ্ধতা-নদীভাঙন, হুমকিতে কৃষিজমি

রামুতে টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে নদীর পানি— সংগৃহীত
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে কক্সবাজারের রামুতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। নদীভাঙনের কবলে পড়ে বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি হুমকির মুখে।
স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টিতে গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও খুনিয়াপালং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। ফতেখাঁরকুল, রাজারকুল ও চাকমারকুল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের বাড়িঘরে পানি ঢুকে দুর্ভোগে পড়েছেন। বিভিন্ন এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব গোয়ালিয়াপালং, দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং ও রেজুখাল এলাকায়। পাহাড়ি ঢলের চাপে নদীভাঙন তীব্র হওয়ায় বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বর্ষার বাকি সময়ে ভাঙনের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহাবুব রহমান বললেন, ‘প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টাইংগাকাটা-গোয়ালিয়াপালংয়ের ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধের বেহাল অবস্থায় হাজারো পরিবারের কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে জমিগুলো চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাসেম দাবি করেন, রামুর অনেক নিচু এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেই ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। এতে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন মাঠে সক্রিয় রয়েছে বলে জানালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
তার ভাষ্য, ‘প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’





