‘ভুল চিকিৎসায়’ প্রসূতির দুই পা প্যারালাইসিস
- ব্যয়ে অপারগ স্বামী ছেড়েছেন সংসার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
লক্ষ্মীপুরে সিজারের সময় ভুল অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগে এক প্রসূতির দুই পা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলায় জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে ওই নারীর। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে সংসার ছেড়ে চলে গেছেন তার স্বামীও। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পাঠানো হয়েছে আইনি নোটিস।
ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তার সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের অটোরিকশাচালক নুর হোসেনের মেয়ে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর শহরের সিটি হাসপাতালে তার সিজার হয়। পরিবারের অভিযোগ, অ্যানেস্থেশিয়া কার্যকর না হওয়ায় তাকে দ্বিতীয়বার ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় অচেতন থাকেন। জ্ঞান ফেরার পর কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়। পরে দুই পা সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চোখ ও কানে সমস্যাও দেখা দেয়।
পরিবার জানায়, প্রথমে সিটি হাসপাতালে এবং পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকার বাংলাদেশ-জাপান হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে চোখ ও কানের সমস্যা কিছুটা কমলেও দুই পা এখনো অচল। শয্যাশায়ী ফারজানা নিজের নবজাতকের দেখাশোনাও করতে পারছেন না।
ফারজানার বড় বোন আঁখি আক্তার বললেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য অন্তত ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষে এ ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়।’
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ রহমান সুমন বললেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসের সন্তোষজনক জবাব না পেলে হাইকোর্টে রিট করা হবে।’
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও মালিক ডা. রাকিবুল আহসান।




