ভোলায় মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, জলাবদ্ধতা

ভোলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
নিম্নচাপের প্রভাবে ৪ দিন ধরে টানা বর্ষণে ভোলার তজুমদ্দিনে মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সাগরে ৩ নম্বর ও নদী বন্দরে ১ নম্বর সর্তক সংকেত জারি রয়েছে। আজ বুধবারও জেলার অভ্যন্তরীণ ৫টি রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, সড়ক, ফসলের মাঠ ও নিম্নাঞ্চল হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত পানি জমে থাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন উপকূলের বাসিন্দারা। মনপুরায় মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ।
ভোলার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলায় ২৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন আরও কয়েক দিন থাকবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
টানা বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে না পারায় প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজকর্ম। দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক ও বিভিন্ন পেশার নিম্ন আয়ের মানুষের কাজ কমে যাওয়ায় সবচেয় দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে গেছে। প্রয়োজনীয় কাজেও ঘর থেকে বের হতে পারছেন না এসব এলাকার বাসিন্দারা।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন, তাদের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বিআইডব্লিউটিএ-এর ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানিয়েছেন, সমুদ্রে ৩ নম্বর ও নৌবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় ভোলা জেলার মনপুরা-হাকিমুদ্দিনসহ অভ্যন্তরীণ ৫টি নৌ-রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল আজও বন্ধ রয়েছে। তবে ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর-ঢাকা রুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।





