বরিশাল ফেরি বিভাগে ৭০ পদের ৬০টিই শূন্য
- জনবল ঘাটতি প্রায় ৮৬ শতাংশ
- রাত ৮টার পর মীরগঞ্জে বন্ধ ফেরি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

অনুমোদিত ৭০টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১০ জন। ৬০টি পদই শূন্য। বরিশালের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে ফেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বরিশাল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ফেরিসেবা। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ফেরি মেরামত ও পুনরায় চালু করতে লাগছে বেশি সময়। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে আসন্ন শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশায় ফেরি চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় সেবা নিয়ে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ।
সওজের তথ্য অনুযায়ী, ফেরি বিভাগের মূল অংশে ১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। শূন্য রয়েছে ৯টি পদ। অন্যদিকে, ফেরি উপবিভাগে ৫৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত সাতজন। সেখানে শূন্য পদ ৫১টি। অর্থাৎ বিভাগটির মোট অনুমোদিত পদের প্রায় ৮৬ শতাংশই খালি। কারিগরি ও মাঠপর্যায়ের পদগুলোয় জনবল সংকট সবচেয়ে বেশি। আটটি ভারী গাড়িচালকের পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন। ছয়টি সহকারী মেকানিক পদের বিপরীতে আছেন একজন। এ ছাড়া সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান, মেশিনিস্ট, ওয়েল্ডার, ফিটার, পেইন্টার, হেলপারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছে জনবল ঘাটতি।
ফেরির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত এবং জরুরি মেরামতের জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন। কিন্তু ৭০টি পদের বিপরীতে মাত্র ১০ জন কর্মরত থাকায় তাদের ওপর পড়ছে বাড়তি দায়িত্বের চাপ। সাময়িকভাবে কিছু লোকের সহায়তায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, দুর্ঘটনা কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফেরি বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত সেবা স্বাভাবিক করা হয়ে পড়ছে কঠিন। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে যানবাহনের বাড়তি চাপেও ব্যাহত হয় ফেরিসেবা।
বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাসিন্দা মেহেদী হাসান শুভ জানালেন, চাকরির সুবাদে তাকে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় বরিশাল থেকে মুলাদীতে। কিন্তু বাবুগঞ্জের মীরগঞ্জে রাত ৮টার পর ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জনবল সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বরিশালের বিভিন্ন নদীপথে যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিপণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য পরিবহনে ফেরির ওপর নির্ভরশীল বিপুলসংখ্যক মানুষ। ফলে জনবল সংকটের প্রভাব শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকছে না, ব্যাহত হচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনও।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের নির্বাহী সদস্য ফয়সাল আহম্মেদ নূর পাভেলের ভাষ্য, বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকে হিজলা ও মুলাদী রুটে সন্ধ্যা ৭টার পর কোনো বাস চলাচল করে না। ফলে নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হয় এসব রুটের যাত্রীদের। ফেরি সার্বক্ষণিক চালু থাকলে বাস চালিয়ে যাত্রীসেবা দেওয়া সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বরিশাল নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় ফেরির গুরুত্ব অনেক। ফেরি অচল হলে মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহারের বিষয়ে অতীতে নানা অভিযোগ দেখা গেছে উল্লেখ করেন বরিশালের অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ চক্রবর্তী। প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম জনবল দিয়ে কাজ চালানোর ফলে সেবা ব্যাহত হওয়াই স্বাভাবিক; জনবল বাড়ানো গেলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন এই গবেষক।
সওজের ফেরি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ এহ্তে শামূল হোসেনের অভিযোগ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো কারণে ফেরিতে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে জনবল সংকটের কারণে সেটি পুনরায় সচল করতে বেগ পেতে হয়। এতে মেরামতে বেশি সময় লাগে এবং মাঝেমধ্যে কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত হয়। সীমিত জনবল দিয়েই তাদের সেবা সচল রাখতে হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।



