বর্ষার পানিতে জমে উঠছে দাউদকান্দির নৌকার হাট

দাউদকান্দি উপজেলার ব্যবসায়ীরা নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত। ছবি: আগামীর সময়
বর্ষা শুরু হতেই কুমিল্লার দাউদকান্দীর নদী, খাল ও বিলে বাড়তে শুরু করেছে পানি। এর সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে জমতে শুরু করেছে নৌকার বেচাকেনা।
যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনো বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তবে বৃষ্টি ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে পানি বাড়লে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তাদের আশা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নৌকা বিক্রি হচ্ছে দাউদকান্দীর বিভিন্ন বাজারে। উপজেলার সবচেয়ে বড় নৌকার হাট বসে গৌরীপুর বাজারে। প্রতি রবিবার এ হাট বসে। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমজুড়ে প্রতিদিনই এখানে কমবেশি কেনাবেচা হয় নৌকা।
ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বর্ষার শুরুতেই নৌকার চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন কাজের জন্য নৌকাই প্রধান ভরসা। তাই পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার বিক্রিও বাড়বে বলে তাদের ধারণা।
গৌরীপুর নৌকার হাটের ইজারাদার আব্দুল্লাহ বলেছেন, এখনো নিচু এলাকায় পুরোপুরি পানি জমেনি। তাই বাজারও পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তবে বর্ষা তীব্র হলে বেচাকেনা বাড়বে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌসুমকে সামনে রেখে স্থানীয় কারিগরেরা কয়েক মাস ধরেই শত শত নৌকা তৈরি করেছেন। অনেকে এখনো নৌকা তৈরির কাজ করছেন।
হোমনা উপজেলার মাথাভাঙ্গা গ্রামের নৌকা নির্মাতা কার্তিক দাস জানিয়েছেন, প্রতি বছর বর্ষার শুরুতেই নৌকা বিক্রি শুরু হয়। এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বিক্রির জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে ৩৫টি নৌকা তৈরি করেছেন। এর মধ্যে এখনো ১৫টি বিক্রি হয়নি। তবে মৌসুমের বাকি সময়ে ভালো বিক্রির আশা করছেন।
নৌকা ব্যবসায়ী সুজন সাহা জানান, প্রতি বছর আষাঢ় মাস থেকে নৌকার বাজার জমে ওঠে। কিন্তু এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় ক্রেতার সংখ্যাও কম।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বড় হাটগুলোতে সপ্তাহে এক দিন নৌকার হাট বসে। বর্তমানে ছোট নৌকা ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা এবং মাঝারি আকারের নৌকা ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, স্থানীয় ইলিয়টগঞ্জ বাজারে প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার নৌকার হাট বসে।
ইলিয়টগঞ্জের নৌকা বিক্রেতা নূরে আলম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এই তিন মাসই তাদের নৌকা বিক্রির মৌসুম। বছরের বাকি সময়ে তারা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।





