বিপর্যস্ত জনজীবন
- লালমনিরহাট ও অভয়নগরে লোডশেডিং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসহনীয় লোডশেডিং। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। একদিকে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমহীনতায় ভুগছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অন্যদিকে যশোরের অভয়নগরে গত কয়েক দিনে লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। শহরে কম হলেও গ্রামে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অভয়নগরের ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, দিনের তুলনায় রাতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন মানুষ। বিদ্যুৎহীনতায় ভ্যাপসা গরম ও মশার উপদ্রবে সারা রাত ছটফট করে কাটাতে হচ্ছে শ্রমজীবীদের। কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের ইশোরকোল গ্রামের দিনমজুর আজগার আলী বলেছেন, সারা রাত বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ঘুমাতে পারি না। সকালে চোখ খুলতেই কষ্ট হয়, শরীর দুর্বল লাগে। একদিন কাজে না গেলে ঘরে চাল ওঠে না। পরিবার নিয়ে এখন কী করব বুঝতে পারছি না।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের ওপরও। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় যানবাহনের ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ দিতে পারছেন না তারা।
কালীগঞ্জ নেসকোর (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেছেন, কালীগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ বাড়লে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
অন্যদিকে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্র জানায়, অভয়নগরে ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানসহ গ্রাহক রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার। এর বিপরীতে প্রতিদিন দিনে চাহিদা রয়েছে ৪৯-৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৩ মেগাওয়াট। অন্যদিকে রাতে চাহিদা রয়েছে ৫০-৫২ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ মেগাওয়াট। যে কারণে প্রতিদিন অভয়নগরে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এভাবে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে।
নওয়াপাড়া মদিনা পোলট্রি ফার্মের মালিক শাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আমরা পোলট্রি ব্যবসায়ীরা খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছি। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে মুরগি মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমার কয়েকবার মুরগি মারাও গেছে।
নওয়াপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ডিজিএম সনজিৎ কুমার মণ্ডলের ভাষ্য, ‘চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ হলে লোডশেডিং থাকবে না।






