আমতলীতে কচুরিপানায় আচ্ছন্ন নদী, বন্ধ অপসারণ
- ব্যাহত হচ্ছে আমতলীর চাওড়া নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ
- কচুরিপানা অপসারণ শুরু হলেও এক মাসের মাথায় বন্ধ
- বরাদ্দ ১ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ কিমির মধ্যে কাজ হয়েছে তিন কিমির
- দূষিত হচ্ছে নদীর পানি ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরসভাবাসী

ছবি: আগামীর সময়
বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া নদী ও এর শাখা নদী ২৫-৩০ বছর ধরে কচুরিপানায় আচ্ছন্ন। দীর্ঘদিনের এ সমস্যায় নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, পচা কচুরিপানা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। দুর্ভোগ কমাতে নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ শুরু হওয়ার এক মাসের মাথায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার হয়েছে মাত্র তিন কিলোমিটার অংশ। এতে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
তাদের অভিযোগ, চাওড়া ও এর শাখা নদীর প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশ কচুরিপানায় ভরে থাকায় চাওড়া, কুকুয়া, হলদিয়া ও আমতলী সদর ইউনিয়ন এবং আমতলী পৌরসভার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। কচুরিপানা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে চাওড়া নদীর কচুরিপানা অপসারণে ‘সুবন্দী প্রকল্প’ হাতে নেয় বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার নদী পরিষ্কারের কাজ পান পটুয়াখালীর ঠিকাদার বশির উদ্দিন। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট যন্ত্রের সাহায্যে কচুরিপানা অপসারণের কাজ শুরু হয়। তবে লক্ষ্মী এলাকা থেকে বলাইবুনিয়া গোড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পরিষ্কারের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দরপত্র অনুযায়ী এক্সকাভেটর বা ভেকু মেশিন ও শ্রমিক দিয়ে কচুরিপানার গোড়াসহ অপসারণ করতে হবে, যাতে তা দ্রুত আবার জন্মাতে না পারে। কিন্তু ঠিকাদার যন্ত্রের সাহায্যে কচুরিপানা কাটার কাজ শুরু করেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি দরপত্রের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ ওঠে। পরে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান ঠিকাদারকে নোটিস দেন। এরপর থেকেই কাজ বন্ধ রয়েছে।
কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা গত ১৮ অক্টোবর প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, ‘কয়েক দশক ধরে নদীটি কচুরিপানায় ভরে থাকলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। কচুরিপানা পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এখন নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পরও কাজ বন্ধ থাকায় মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘ হচ্ছে।’
তবে কাজের পদ্ধতি নিয়ে স্থানীয়দের দাবির সঙ্গে একমত নয় প্রশাসন ও পাউবো। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হবে। মেশিন দিয়ে কচুরিপানা অপসারণের সুযোগ নেই।’
পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমানের ভাষ্য, দরপত্রের বাইরে কচুরিপানা অপসারণের সুযোগ নেই। আগে যন্ত্রের সাহায্যে কচুরিপানা কেটে তোলা হয়েছিল, যা দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী হয়নি।
একই কথা জানিয়েছেন পাউবোর বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান। তার ভাষায়, মানুষের ভোগান্তি দূর করতেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। সরকারি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হবে। কচুরিপানা এমনভাবে অপসারণ করতে হবে, যাতে তা আবার জন্মাতে না পারে। তারা সে লক্ষ্যেই কাজ করার চেষ্টা করছেন।



