বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পের আরডিপিপি যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে, বাড়ছে ব্যয়

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের সময় ও ব্যয় পুনর্নির্ধারণের জন্য সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) জমা দেওয়া হবে মন্ত্রণালয়ে। নতুন ডিপিপির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। পুনর্মূল্যায়ন শেষে একনেকে অনুমোদন পেলেই শুরু হবে প্রকল্পের কাজ।
আজ বুধবার আরডিপিপি প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প পরিচালক আবু জাফর।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজধানীর সঙ্গে উত্তরের জেলাগুলোর দূরত্ব কমাতে বগুড়ার সঙ্গে সিরাজগঞ্জে সরাসরি রেললাইন স্থাপনে দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের। এ লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয় প্রকল্পটি। বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় ঋণের অর্থে নেওয়া হয় ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত।
৮৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের জন্য ওই সময় প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৪৬ কোটি ৫৯ লাখ ১০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ভারতের। কিন্তু পরামর্শক নিয়োগ এবং নকশা চূড়ান্ত করা নিয়ে বিলম্বের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে ২০২৩ সালের ৩০ জুন শেষ হয় প্রকল্পের মেয়াদ।
পরে মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের অগ্রগতি হিসেবে শুধু সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বিস্তারিত নকশা তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জমির বেশিরভাগ অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এ প্রকল্পের অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায় ভারত। কিছু দিন অপেক্ষার পর প্রকল্পটি নতুন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন করে ব্যয় ধরা হয় ১০ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।
এর মধ্যে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় জমি অধিগ্রহণের জন্য। যেখানে বগুড়ার অংশের ৫০ দশমিক ৩ কিলোমিটার পথে বরাদ্দ মিলেছে ৯০০ কোটি টাকা। এতে অধিগ্রহণ করা হয়েছে ৪৮১ একরের বেশি জমি।
২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ১১২টি চেকের মাধ্যমে ৮৪ কোটিরও বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে জমির মালিকদের। এমন তথ্য জানিয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের রেলের যে জায়গা প্রয়োজন, সেটি আমরা দেখছি। অধিগ্রহণের সব বরাদ্দ আমরা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী টাকা বুঝে দিচ্ছি। অধিগ্রহণ শেষে জায়গা বুঝে পাওয়ার পর কাজ শুরু করবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।’
বগুড়া রেলস্টেশনের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজু জানিয়েছেন, নতুন রেলপথ চালু হলে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় পৌঁছা যাবে ঢাকায়। এতে ঢাকা থেকে বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের দূরত্ব কমবে ১১২ কিলোমিটার। প্রকল্প অনুযায়ী রানীরহাট ও সিরাজগঞ্জে হবে দুটি জংশন। বগুড়া ও কাহালু থেকে রেললাইন গিয়ে মিলবে রানীরহাটে। এ ছাড়া এ পথে আরিয়া বাজার, শেরপুর, ছোনকা, চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ ও কৃষ্ণদিয়ায় মোট স্টেশন হবে ছয়টি।
সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের কাজ সর্বোচ্চ গুরুত্বে সঙ্গে দেখা হচ্ছে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক আবু জাফর বলছিলেন, ‘আজকে আমরা আরডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছি। আগের থেকে ব্যয় একটু বাড়ছে। নতুন আরডিপিপিতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এটা পুনর্মূল্যায়ন শেষে একনেকে অনুমোদন হলেই শুরু হবে কাজ।’
বগুড়ার নারী উদ্যোক্তা ও হোটেল ব্যবসায়ী তাহমিনা পারভীন শ্যামলী জানিয়েছেন, ঢাকার সঙ্গে সরাসরি রেল চলাচল শুরু হলে বগুড়ার অর্থনীতির গতি আরও বাড়বে। এটা হোটেল ব্যবসার জন্যও ইতিবাচক দিক। আমরাও চাই যত দ্রুত সম্ভব চালু হোক এই রেলপথ।



