উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন রংপুরের ৩৩ শতাংশ মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
রংপুর বিভাগে উচ্চ রক্তচাপের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনাগ্রহকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে রংপুরের হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন।
তিনি বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি শুধু চিকিৎসা সেবা নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, নিয়মিত ফলোআপ এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি সুস্থ সমাজ গঠনে কাজ করছে। মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এখন পর্যন্ত ৩২২টি বিনামূল্যের মেডিক্যাল ক্যাম্প সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়।
বক্তারা জানান, উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ কারণে একে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের কারণে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি বিকল, ব্রেইন হেমারেজ এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মুহাম্মদ জহুরুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোখলেছুর রহমান সরকার। আরও বক্তব্য রাখেন আইআরবি’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. শাহ মোহাম্মদ সারোয়ার জাহান, হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার রংপুরের নির্বাহী সদস্য ডা. মফিজুল ইসলাম মান্টু, রাকাবের ডিজিএম মাহিদুল ইসলাম এবং সুজন জেলা সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু।
সভায় রংপুরের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।






