১৩০ বছরের মায়ের পাশে শতবর্ষী মেয়ে

মা ফাতেমা বেগম ও তার মেয়ে মানিকজান
নিজের বয়সও প্রায় ১০০ বছর। হাঁটতে পারেন না ঠিকমতো, শরীরও আর সায় দেয় না। তারপরও প্রতিদিন শতবর্ষ পেরোনো মায়ের হাত ধরে ওঠান, খেতে দেন, অসুস্থ হলে পাশে বসে থাকেন। বয়সের কাছে হার মানলেও মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধে হার মানেননি মানিকজান।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গড়মাটি গ্রামের একটি ছোট্ট ঘরে বসবাস করেন মা ফাতেমা বেগম ও তার মেয়ে মানিকজান। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ফাতেমা বেগমের জন্ম ১৯২৭ সালে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তার প্রকৃত বয়স ১২৫ থেকে ১৩০ বছর হতে পারে। আর মেয়ে মানিকজানের বয়সও প্রায় ১০০ বছর। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মা-মেয়ে দুজনই ভুগছেন বয়সজনিত নানা সমস্যায়। তবু মায়ের সেবাযত্নে কোনো কমতি রাখেন না মানিকজান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বাধীনতার পরপরই স্বামীকে হারান ফাতেমা বেগম। প্রায় এক দশক আগে মারা যান তার একমাত্র ছেলে। এর পর থেকে মা ও মেয়েই একে অন্যের একমাত্র অবলম্বন। নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার মতো নেই কোনো স্বজন। প্রয়োজনমতো পাশে দাঁড়ান প্রতিবেশীরাই।
স্মৃতির ঝাঁপি খুলে ফাতেমা বেগম বললেন, ‘ছোটবেলায় মাস্টার তালের পাতায় অ, আ লিখাইছিল। এরপর আর পড়া হয় নাই। আমার নানা অনেক জমির মালিক আছিল। ১০ জোড়া মহিষ ছিল। তখন গরু-মহিষের গাড়িতেই চলাফেরা করতাম।’
মেয়ে মানিকজান বললেন, ‘আমরা কেউ লেখাপড়া জানি না। লেখাপড়া জানলে বয়সটা লিখে রাখতে পারতাম। আমার মায়ের বয়স আরও বেশি হবে, আমারও হবে। এখন মাকে একা গোসল করাতে পারি না। দুই-তিনজন মিলে করাতে হয়। আমি যতটা পারি, মায়ের দেখাশোনা করি।’
তাদের পুরনো ঝুপড়ি ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই সেটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত উল্লাহ নূর সুমন বলেছেন, ‘ঘরটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তাই স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে তাদের জন্য একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
আরেক বাসিন্দা রফিকুলের ভাষ্য, ‘একটি ঘর অনেকের কাছে সাধারণ বিষয় হতে পারে। কিন্তু এই শতবর্ষী মা-মেয়ের জন্য সেটিই নিরাপত্তা আর বেঁচে থাকার নতুন আশা।’




