থানায় হাতকড়া পরা আসামির টিকটক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সংগৃহীত ছবি
মাদারীপুর সদর থানার ভেতরে হাতকড়া পরা অবস্থায় এক যুবকের টিকটক ভিডিও ধারণের ঘটনা ঘটেছে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে এমন ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের ঘটনায় পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হাতকড়া পরা তানভীর নুসু নামের এক যুবক থানার ভেতরে দাঁড়িয়ে টিকটক ভিডিও করছেন। তার আশপাশে ডিউটি অফিসার, একজন কনস্টেবল ও এসআই ইব্রাহিমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য বসে ছিলেন। এ সময় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন মালমগীর হোসেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে মাদারীপুর পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকায় মারামারির ঘটনায় তানভীর নুসুকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পুলিশের নজর এড়িয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় তিনি ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টে সেটি প্রকাশ করেন।
পুলিশি হেফাজতে থাকা এবং হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় ওই যুবকের হাতে কীভাবে মোবাইল ফোন গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের একাধিক সদস্য স্পষ্ট করলেন, ‘দায়িত্বে থাকা সদস্যদের গাফিলতির কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।’
ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই ইব্রাহিম শেখ বলেন, ‘তখন আমার ডিউটি ছিল না। ডিউটি ছিল এসআই মালমগীর স্যারের। আমি সিভিল পোশাকে বসে ছিলাম।’
এসআই মালমগীর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুর সদর থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ বললেন, থানার ভেতরে টিকটক ভিডিও ধারণের বিষয়ে তিনি অবগত নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




