তিন দিনে রুমায় সাড়ে ৫ হাজার পর্যটক, লেনদেন আড়াই কোটি টাকা

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় একটি পাহাড়ের ওপর থেকে তোলা ছবি- আগামীর সময়
দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে বান্দরবানের রুমা উপজেলায়। গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন দিনে উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ করেছেন ৫ হাজার ৫০২ জন পর্যটক। তাদের ঘিরে পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা খাতে অন্তত আড়াই কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর মধ্যে ট্যুর গাইডরা পারিশ্রমিক হিসেবে আয় করেছেন প্রায় ১০ লাখ টাকা।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, শুক্রবার ও শনিবার আরও প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার পর্যটক রুমার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করবেন। এই হিসাব ঠিক থাকলে দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে শুধু রুমা উপজেলাতেই পর্যটন খাতে লেনদেন পাঁচ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
রুমা উপজেলা পর্যটক গাইড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে তালিকাভুক্ত হয়ে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ ও অবস্থান করেছেন ৫ হাজার ৫০২ জন পর্যটক। এ সময়ে তাদের সেবা দিয়েছেন ৫১৫ জন গাইড। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন ট্যুর গাইড একই দলের সঙ্গে টানা দুই দিন কাজের বুকিং পেয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, একজন ট্যুর গাইড প্রতিদিন পারিশ্রমিক পান এক হাজার টাকা।
রুমা উপজেলা ট্যুর ম্যানেজার রওকুয়াল বম জানালেন, শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত রুমা ভ্রমণের জন্য ৯১৩ জন পর্যটক নাম নিবন্ধন করেছেন। বিকালের মধ্যে এ সংখ্যা আড়াই হাজার থেকে তিন হাজারে পৌঁছাতে পারে। শনিবারও পর্যটকের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে পাঁচ দিনের ছুটিতে রুমায় প্রায় ১১ হাজার পর্যটকের সমাগম হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে বান্দরবান জেলা সদরে কথা হয় গাজীপুর থেকে আসা পর্যটক আরফান আলীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, তাদের দলে সদস্য ছিলেন ১৭ জন। ২১ অক্টোবর ভোরে বান্দরবান থেকে রওনা হয়ে তারা রুমায় পৌঁছান। সেখান থেকে দুটি চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে কেওক্রাডং যান। সেখানে এক রাত কাটিয়ে পরদিন রুমা হয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে বান্দরবান শহরে ফেরেন।
আরফান আলী বললেন, গাইডদের জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে মোট চার হাজার টাকা দিয়েছেন তারা। রুমা থেকে কেওক্রাডং যাওয়া, সেখানে অবস্থান এবং পরদিন বিকালে রুমায় ফিরে আসা পর্যন্ত তাদের মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৯ হাজার টাকা।
পর্যটক বাড়লেও গাইডের সংকট
পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও রুমায় পর্যাপ্ত ট্যুর গাইডের সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর তালিকাভুক্ত গাইডের সংখ্যা ১২০ জন। তবে পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে এর বাইরেও স্থানীয় উদ্যমী ব্যক্তিদের গাইড হিসেবে কাজে যুক্ত করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে যানবাহন ও আবাসনসুবিধা নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে।
রওকুয়াল বম জানান, ২০ অক্টোবর রুমায় আসেন ২ হাজার ১১ জন পর্যটক। নিয়ম অনুযায়ী, তাদের জন্য ১৭৭ জন গাইড প্রয়োজন ছিল। এ কারণে তালিকাভুক্ত গাইডের বাইরে স্থানীয় আরও ৫৭ জনকে গাইড হিসেবে পাঠাতে হয়েছে। পরদিন ২ হাজার ১৩২ জন পর্যটকের জন্য ১৮২ জন গাইড এবং বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৩৫৯ জন পর্যটকের জন্য ১৫৬ জন গাইডের বুকিং দিতে হয়েছে।
রওকুয়াল বম বললেন, পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে রুমায় নিবন্ধিত গাইডের সংখ্যা ২০০ জনে উন্নীত করা প্রয়োজন। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে অন্যান্য অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।



