হিলি বন্দর
দিনে ১২ বার লোডশেডিং, দুর্বিষহ জীবন

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের হাকিমপুরের প্রায় ৪০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। প্রতিদিন ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৩ মেগাওয়াট। এতে উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন অন্তত ১২ বার লোডশেডিং করা হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং স্থায়ী হচ্ছে। গত শনিবার বিকাল ৪টা থেকে রবিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১ বার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দৈনন্দিন আয়-রোজগারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ইজিবাইক চালকেরা। পর্যাপ্ত চার্জ না হওয়ায় অনেকেই নির্ধারিত সময় সড়কে নামতে পারছেন না। ফলে আয় কমে যাওয়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে তীব্র গরমে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডের ১২ নম্বর বেডে ভর্তি রমিজ উদ্দিন বলেছেন, শ্বাসকষ্ট ও ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ায় তিন দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আরও বেশি কষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে ওয়ার্ডে থাকা খুবই দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।
উপজেলার ছাতনী গ্রামের ইজিবাইকচালক মোহাম্মদ আলী বললেন, সারা দিন চার্জে রাখলেও ব্যাটারিতে অর্ধেকের বেশি চার্জ হয় না। তাই আগের মতো সারা দিন ইজিবাইক চালাতে পারছি না। ট্রিপ কমে যাওয়ায় আয়ও অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে হিলি পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী জানালেন, বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। উপজেলার সাতটি ফিডারের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তিনটি ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সব এলাকায় সীমিত পরিসরে হলেও বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া যায়।







