পুলিশ সদস্যের মৃত্যুতে ধোঁয়াশা, পারিবারিক অশান্তি নাকি অন্য কিছু?

কাশিয়ানীর চরপদ্মবিলা গ্রামে মরদেহ নেওয়ার পর সম্রাটের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছবি: আগামীর সময়
শনিবারের ভোরটা অন্য দিনের মতোই শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই ভোরই হয়ে উঠল এক পরিবারের জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামের পুলিশ সদস্য সম্রাট বিশ্বাসের হঠাৎ মৃত্যুতে স্তব্ধ পরিবার, শোকাহত স্বজনরা। কেন তিনি এমন পথ বেছে নিলেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরছে সবাই।
আজ শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খুলনার সোনাডাঙ্গা রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনসের অস্ত্রাগারের দায়িত্বে ছিলেন কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাস। দায়িত্ব পালনরত অবস্থাতেই নিজের রাইফেলের নল কপালে ঠেকিয়ে ট্রিগার চাপেন তিনি। ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। মুহূর্তেই নিভে যায় একটি প্রাণ, থেমে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন।
সম্রাটের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর চরপদ্মবিলা গ্রামে। তিনি শৈলেন বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে। দুই বোনের আদরের ভাই ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে পুলিশে যোগ দেন সম্রাট। সম্প্রতি খুলনা রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী পূজা বিশ্বাসও পুলিশ সদস্য, বর্তমানে কর্মরত সাতক্ষীরা জেলায়।
পরিবারের দাবি, সম্প্রতি দাম্পত্য জীবনে কিছুটা অশান্তি চলছিল। সম্রাটের মামা পরিমল রায় জানান, ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তারা। গত আশ্বিন মাসে কোর্ট ম্যারেজের পর আগামী ১৯ বৈশাখে পারিবারিকভাবে স্ত্রীকে ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু সেই আয়োজন আর বাস্তবায়ন হলো না।
তার অভিযোগ, পারিবারিক চাপই হয়তো সম্রাটকে এমন চরম সিদ্ধান্তে ঠেলে দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না কেউই।
‘সম্রাটের স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ি খুলনায় এলেও গ্রামের বাড়িতে আসেননি। এতে পরিবারে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করছেন তারা। তবে প্রকৃত কারণ এখনও অজানা।’
দুর্গাপূজার পর কর্মস্থলে ফিরে গিয়েছিলেন সম্রাট। আর এবার তিনি ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে চারপাশে নেমে আসে শোকের ছায়া। আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন শেষবারের মতো দেখতে।
সবার মনে একটাই প্রশ্ন, কেন এমন করলেন সম্রাট? পারিবারিক অশান্তি, নাকি অন্য কোনো অজানা কারণ—রয়ে গেছে ধোঁয়াশা।
প্রতিবেশী আলমগীর ফকির বলেছেন, ‘সম্রাট এলাকার একজন ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। যদি নিজের কষ্ট কারও সঙ্গে ভাগ করতেন, হয়তো এমনটা হতো না।’
শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন সম্রাটের বাবা-মা। ছেলের মৃত্যুর কথা তারা যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না। বারবার ছেলের নাম ধরে ডেকে উঠছেন, কিন্তু কোনো সাড়া মিলছে না।

