কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিট চালু

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিট চালু, উৎপাদন বেড়ে ১৪৪ মেগাওয়াট। ছবি: আগামীর সময়
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটির কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) পাঁচটি ইউনিটই একযোগে চালু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সব ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি থেকে ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কপাবিকের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান। তিনি বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গত কয়েকদিন ধরে কাপ্তাই লেকের পানির স্তর (ওয়াটার লেভেল) ক্রমাগত বাড়ছে। পানির ওপর নির্ভরশীল এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটই আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে একসঙ্গে চালু করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এই ৫টি ইউনিট থেকে মোট ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।’
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সূত্র বলছে, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে পানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩২ মেগাওয়াট করে মোট ৬৪ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে ২৫ মেগাওয়াট করে মোট ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে ৭৯ দশমিক ৮৬ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। তবে রুল কার্ভ অনুযায়ী বছরের এ সময়ে পানির স্তর থাকার কথা ৮৪ দশমিক ৯৬ ফুট মিন সি লেভেল। কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট মিন সি লেভেল।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ভাষ্য, লেকে পানির তীব্র সংকটের কারণে গত কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। তখন কখনো একটি, আবার কখনো দুটি ইউনিট চালু রেখে সীমিত পরিসরে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সোমবার তিনটি ইউনিট এবং মঙ্গলবার সকালে চারটি ইউনিট চালু করা হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পাঁচটি ইউনিটই একযোগে চালু হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।




