চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আটক ২৪ জেলে

আটক জেলেরা
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের দায়ে আটক ২৪ জেলের মধ্যে ২২ জনকে ১২ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, ছয়টি মাছ ধরার নৌকা ও পাঁচ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। বাকি দুই জেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় জেলা ও উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গতকাল রবিবার বিকাল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে অভিযান চালানো হয়। সদর উপজেলার আনন্দবাজার, লালপুর, কাচিকাটা, চিরাচর, হরিসভা, রনাগোয়াল ও বহরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে চিরাচর এলাকা থেকে ১৮ জন এবং দোকানঘর এলাকা থেকে ছয় জেলেকে আটক করা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ইকবাল, মো. রহমত উল্লাহ ও তানভীর রাব্বী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত ২২ জেলেকে ১২ দিন করে কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০০ টাকা জরিমানা করেন। বাকি দুই জেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন রিফাত (২৫), রাসেল খান (২৬), দেলোয়ার হোসেন (৬০), সুজন গাজী (৩০), ইদ্রিস আলী (৩৫), নজরুল বেপারী (২৮), মনির মিজি (২৮), শহীদ গাজী (২৯), দেলোয়ার হোসেন মোল্লা (৬০), জাহাঙ্গীর বেপারী (৩৫), সেলিম ফকির (৩০), মো. নজরুল (৩০), কামাল বেপারী (৩৪), লিটন বেগ (৪৫), মাইনুদ্দিন (৪৭), নয়ন শরীফ (১৮), নিজাম প্রধানিয়া (৩৬), মো. রাসেল (৩০), মনির বেপারী (২৮), মোহাম্মদ হোসেন (১৯), রাসেল গাজী (২৫) ও মো. ইকবাল (২২)। তাদের বাড়ি চাঁদপুর ও পাশের শরীয়তপুর জেলায়।
মিজানুর রহমান আরও জানিয়েছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জব্দ করা কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। জব্দ ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। ছয়টি মাছ ধরার নৌকা কোস্টগার্ডের হেফাজতে রয়েছে।




