চাচার বাড়িতে ‘ডিবি’ পরিচয়ে ভাতিজার ডাকাতি

ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয় দিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে ডাকাতরা।
এ ঘটনার মূল পরিকল্পনায় ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের আপন ভাতিজা। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে। ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িতের অভিযোগে ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে সিদ্দিকুর রহমান ওয়াদুদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, রাতের খাবার শেষে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে ছয় সদস্যের একটি দল নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে বাড়িতে ঢোকে। তারা মাদক ও জাল টাকার ব্যবসার অভিযোগ তুলে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ঘর তছনছ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রযুক্তির সহায়তায় লুট হওয়া একটি মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে পাশের কলমাকান্দা উপজেলার সিধলী এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার রাজ কুমার (২৬), জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার আব্দুল হামিদ (৪৫) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শাহীন আলম (৩৮)।
‘ডাকাতরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে রাখে। নারী সদস্যদের আলাদা কক্ষে আটকে রেখে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালায়’— জানান ভুক্তভোগীর ছেলে পাভেল মিয়া।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী নূর জাহান বেগমের দাবি, ডাকাতির পরিকল্পনার সঙ্গে তাদেরই এক ভাতিজা জড়িত। ডাকাতি শেষে পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন তাকে চিনে ফেলেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির কথা স্বীকার করেছেন। এর পরিকল্পনাকারী ভুক্তভোগীর আপন ভাতিজা বলেও জানিয়েছেন তারা। তাদের ভাষ্য, বিয়ে বাড়ির কথা বলে ঘটনাস্থলে নিয়ে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ডাকাতি করানো হয়।
ঘটনার মূল হোতাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে— যোগ করেন ওসি খন্দকার।






