একাই...
- পাঁচ শ্রেণি, ৫৪ শিক্ষার্থী, এক শিক্ষক

সংগৃহীত ছবি
একটি বিদ্যালয়, পাঁচটি শ্রেণি, ৫৪ শিক্ষার্থী— কিন্তু শিক্ষক মাত্র একজন। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভাটিবলাকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। একজন শিক্ষককেই একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে পাঁচ শ্রেণির পাঠদান। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবেও পালন করতে হচ্ছে প্রশাসনিক দায়িত্ব।
শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হোসেন্দী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ভাটিবলাকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস খানম ২০২৫ সালের জুলাই মাসে অবসরজনিত ছুটিতে যান। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। এরই মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১০ মাসের প্রশিক্ষণে গিয়েছেন অপর সহকারী শিক্ষক মো. রুবেল মিয়া। এখন সাইফুল ইসলামকেই সামলাতে হচ্ছে পাঠদান থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সব দায়িত্ব।
পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, ‘সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা পাঁচটি শ্রেণিতে পাঠদান করা একজন শিক্ষকের পক্ষে সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজও থেমে থাকে না। আমি একা কীভাবে সব সামলাব, বুঝতে পারছি না।’
শিক্ষক সংকট কাটাতে ছয় মাসের জন্য অন্য দুটি বিদ্যালয় থেকে প্রেষণে আনা হয়েছিল দুজন শিক্ষককে। কিন্তু তাদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে গেছেন তারা। এরপর আবারও এক শিক্ষক দিয়েই চলছে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম— যোগ করলেন তিনি।
এই সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম কতটা ব্যাহত হচ্ছে, তার একটি উদাহরণ মিলেছে গতকাল সোমবার। জরুরি সভায় অংশ নিতে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যেতে হয় সাইফুল ইসলামকে। বিকল্প কোনো শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় ছুটি দিতে হয় দুপুর ১টার পরই। তিনি বললেন, ‘আমাকে জরুরি প্রয়োজনে গজারিয়া শিক্ষা কার্যালয়ে যেতে হবে। আজ দুপুর ১টায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে হয়েছে। বিকল্প কোনো সমাধান না থাকায় দুপুরের পর স্কুল বন্ধ না করে কোনো উপায় ছিল না।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও হোসেন্দী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলম খান জানালেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের পড়াশোনা। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনো হয়নি কোনো স্থায়ী সমাধান।
স্থানীয় বাসিন্দা সুজন খানের মতে, একজন শিক্ষক দিয়ে একটি বিদ্যালয় চালানো সম্ভব নয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে নিশ্চিত করা উচিত শিশুদের শিক্ষার অধিকার।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন দেখালেন আশার আলো। তিনি জানালেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাময়িকভাবে দেওয়া হবে আরও একজন শিক্ষক। আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন শিক্ষক নিয়োগ হবে।






