অভিমানে বাড়ি ছাড়ল স্কুলছাত্রী, ৫ দিন পর নদীতে ভেসে উঠল মরদেহ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কেরানীগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর ফারহানা ফাতেমা (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার নবাবগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল সে।
নিহত ফারহানা ফাতেমা কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামের সৌদিপ্রবাসী ফারুক মোল্লার মেয়ে। তিন বোনের মধ্যে সে ছিল বড় এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন আগে পারিবারিক একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে অভিমান করে ফাতেমা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এর পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার দুই থেকে তিন দিন পর কেরানীগঞ্জের ভেন্ডিঘাট এলাকায় তার ব্যবহৃত বোরকা পাওয়া যায়। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়, সে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বজনরা ধলেশ্বরী নদীসংলগ্ন এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করে। পরে সন্দেহের ভিত্তিতে ডুবুরি দলের সহায়তায় নদীতে উদ্ধার অভিযানও চালানো হয়। ডুবুরি দল জাল ফেলে তল্লাশি চালালেও তখন তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর পরিবারের সদস্যরা আশা করেছিলেন, হয়তো ফাতেমা জীবিত অবস্থায় কোথাও রয়েছে। কিন্তু নিখোঁজের পাঁচ দিন পর নবাবগঞ্জের দৌলতপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
পাড়াগ্রাম পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বললেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’





