মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায় কুয়াকাটা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত সাগরকন্যা কুয়াকাটা। পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬। ৯ বছর পর পর্যটন কার্নিভাল আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
পাঁচ দিনের ছুটি ও পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে অধিকাংশ আবাসিক হোটেল-মোটেলে শুরু হয়েছে আগাম কক্ষ বুকিং। কোথাও কোথাও বুকিং ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে বুকিং আরও বাড়বে বলে আশা করছেন হোটেল মালিকরা।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কার্নিভালে দেশবরেণ্য সংগীত ও অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি ক্রিকেট ও ফুটবল তারকাদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। এ ছাড়া বিচ ফুটবল, বিচ ক্রিকেট, বিচ ম্যারাথনসহ নানা আয়োজন থাকছে। ফলে এবারের ছুটিতে পর্যটকদের বাড়তি সমাগমের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটকদের স্বাগত জানাতে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, ফিশ ফ্রাই, আচার, ঝিনুকসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১৬ ধরনের পেশার পাঁচ থেকে সাত হাজার শ্রমিকের জীবিকা পর্যটকদের আগমনের ওপর নির্ভরশীল। দুর্গাপূজার ছুটি ও আসন্ন পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে কুয়াকাটার তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট পর্যটক বরণের প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে পর্যটন খাতে বিপুল বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও সৈকত, সড়ক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় হতাশা রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
কুয়াকাটার অভিজাত সিকদার রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার আল আমিন খান জানিয়েছেন, আগামী ২১ অক্টোবরের জন্য তাদের রিসোর্টের সব কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। অন্যান্য দিনের জন্য প্রায় ৬০ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে বাকি কক্ষগুলোও বুকিং হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তারা।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক এবং হোটেল খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেল খান জানিয়েছেন, দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। তবে আগত পর্যটকদের বড় একটি অংশ আশপাশের এলাকার হওয়ায় এখনো অধিকাংশ হোটেলে শতভাগ কক্ষ বুকিং হয়নি। তারপরও পর্যটকদের মানসম্মত সেবা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানিয়েছেন, এরই মধ্যে কুয়াকাটার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ হোটেল কক্ষ বুকিং হয়েছে। এখানে ছোট-বড় ৩০০টির বেশি আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব আবাসনকেন্দ্রে একসঙ্গে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। ছুটিতে বাড়তি পর্যটকের চাপ সামাল দিতে আশপাশের পাঁচ গ্রামের প্রায় ৬০০টি বাসাবাড়িও হোমস্টে হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এতে আবাসন সংকট মোকাবিলায় বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান জানিয়েছেন, দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সৈকতে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেছেন, ‘দীর্ঘ ছুটি ও পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং তাদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণের সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে কুয়াকাটা ভ্রমণ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক থাকবে।’



