১১ বছর তালাবদ্ধ শার্শা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

রোগীদের জন্য বেড আছে, চেয়ার-টেবিল আছে, চিকিৎসাকেন্দ্রের সাইনবোর্ডও টানানো। নেই শুধু চিকিৎসাসেবা। নির্মাণের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গোগড়াপাড়া বাজারে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি আজও চালু হয়নি।
একদিকে কয়েক কোটি টাকার সরকারি সম্পদ অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসার অভাবে চারটি ইউনিয়নের লাখো মানুষকে প্রতিনিয়ত ছুটতে হচ্ছে ২০-২৫ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে। তথ্য মিলেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী নিজামপুর, ডিহি, লক্ষ্মণপুরসহ আশপাশের এলাকার মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালে নির্মাণ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু এরপর কেটে গেছে ১১ বছর। এখনো সেখানে একজন চিকিৎসকও বসেননি, একজন রোগীও চিকিৎসা পাননি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। মরিচা ধরেছে দরজা-জানালায়। খসে পড়ছে দেয়ালের রঙ। রোগীদের জন্য আনা বেড, চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ধুলাবালিতে ঢেকে নষ্ট হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে পরিত্যক্ত ভবনটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল।
স্থানীয় রোগী হাসান আলীর ভাষ্য, হাসপাতালটি চালু থাকলে প্রসূতি মা, নবজাতক ও জরুরি রোগীরা সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। এখন কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে নাভারণ বা যশোর সদর হাসপাতালে নিতে হয়। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সড়কপথে রোগীর মৃত্যু হয়। চোখের সামনে হাসপাতাল থাকলেও চিকিৎসাসেবা না পাওয়া সীমান্তবাসীর কাছে চরম হতাশার।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান জানালেন, বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালটি চালুর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে।
শার্শা উপজেলা মা, শিশুস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডাক্তার আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, ভবন ও কিছু আসবাবপত্র পাওয়া গেছে। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতির বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পদ অনুমোদন ও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।
সীমান্তাঞ্চলের মানুষের দাবি, আর কোনো আশ্বাস নয়— দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি বরাদ্দ এবং গোগড়াপাড়ার ১০ শয্যার হাসপাতালটি চালু করে লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবার অধিকার নিশ্চিত করা হোক।






