৯০ বছরের বৃদ্ধ খুঁজে পেলেন হারিয়ে ফেলা পরিবার

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের হাকিমপুরে রাস্তার পাশে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা ৯০ বছর বয়সী অন্ধ বৃদ্ধ মতিউর রহমান অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরেছেন। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তার ছেলে রহিদুল ইসলাম বাবার সন্ধান পান। পরে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মতিউর রহমানকে ছেলের হাতে তুলে দেয় পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেস্ট।
শুক্রবার রাত ৯টার দিকে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন মতিউর রহমানকে তার ছেলে রহিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় নেস্টের সভাপতি মো. ফয়সাল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মালেক, এসআই লক্ষীকান্ত রায়সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী আব্দুর রহিম জানালেন, তিনি আগে থেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেস্টের সদস্যরা বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে তিনি নিজেই অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধকে বাবার মতো দেখভাল করেন, গোসল করান, খাবার খাওয়ান এবং প্রয়োজনীয় সেবা দেন। পরে হাসপাতালে এসে দেখেন, বৃদ্ধের ছেলে এসে পৌঁছেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বাবার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নেস্টের সভাপতি মো. ফয়সাল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মালেক জানালেন, বৃহস্পতিবার বিকালে খবর পান যে হিলি চারমাথা মোড়ে রাস্তার পাশে এক বৃদ্ধকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি ওসি জাকির হোসেনকে জানালেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তার পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করেন।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম জানালেন, প্রায় এক বছর আগে তার বাবা নিখোঁজ হান। তিনি অন্ধ হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছিল। গণমাধ্যম ও ফেসবুকে হিলি হাসপাতালে তার বাবার অবস্থানের খবর দেখে তিনি সেখানে ছুটে আসেন। বাবাকে ফিরে পেয়ে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। এ সময় বাড়ি ফেরার খরচ হিসেবে ওসি জাকির হোসেন তাকে ১ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা করেন।
হাকিমপুর থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলছেন, বৃহস্পতিবার রাতে খবর পেয়ে পুলিশ সদস্য ও নেস্টের স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে তার ছেলে রহিদুল ইসলামের কাছে মতিউর রহমানকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই পুলিশ এই উদ্যোগ নিয়েছে।





