হবিগঞ্জ
তলিয়ে যাওয়া ধান তুলতে গিয়ে প্রাণ গেল কৃষকের

সংগৃহীত ছবি
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় হাওরে তলিয়ে যাওয়া ধান উদ্ধার করে ফেরার পথে নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া কৃষক সাদেক মিয়ার মরদেহ একদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে নদী থেকে।
বৃহস্পতিবার সকালে সুতাং নদীতে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে সাদেক মিয়ার মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে দুপুরে।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাখাই উপজেলার বামৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন ফারুক। তিনি জানান, নিহত সাদেক মিয়া নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, চার ও পাঁচ বছরের দুই সন্তান, বাবা-মা এবং তিন ভাই। হাওরে ৩০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেই চলত তাদের যৌথ সংসার। টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে পুরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় ছিল পরিবারটি।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েকদিন ধরে ডুবে যাওয়া ধান তোলার কাজ করছিলেন সাদেক। বুধবার ছোট ভাই পলাশকে সঙ্গে নিয়ে তোলা ধান শুকাতে যান তিনি। সন্ধ্যায় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বাড়ি ফেরার পথে শুরু হয় ঝড়। এ সময় নৌকার গলুইয়ে বসে ছিলেন সাদেক এবং বৈঠা ধরেছিলেন তার ভাই। একপর্যায়ে প্রবল বাতাসে নদীতে পড়ে যান সাদেক।
নৌকা থামিয়ে তাকে খোঁজার চেষ্টা করলেও পাননি পলাশ। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অনুসন্ধান চালায় রাতভর। তবে সেদিন তার সন্ধান মেলেনি।
নিহতের দাদা আহাদ মিয়া ও ফুফু ফারজানা আক্তার জানান, ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর থেকেই মানসিক চাপের মধ্যে ছিল পরিবারটি। সেই ধান তুলতে গিয়ে পরিবারের উপার্জনক্ষম একজন সদস্যকে হারানোর ঘটনায় নেমে এসেছে শোক।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিল পুলিশ। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে স্বজনদের কাছে।
এর আগে গত ৭ মে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হাওরে তলিয়ে যাওয়া জমি দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া আরেক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয় দুই দিন পর।




