প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে কঠিন সাজা : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বললেন, আলাদা প্রশ্নপত্রে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা হবে না। একক প্রশ্নে সব কয়টি বোর্ডে পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রশ্নপত্র আউট হলে এবারে কঠিন সাজা দেওয়া হবে। এমন সাজা দেওয়া হবে তা বাংলাদেশে ভবিষ্যতে উদাহরণ হয়ে থাকবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে বরিশাল অঞ্চল কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিলেন। বললেন, নকল এখন আর হচ্ছে না। আমরা এখন শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। শিক্ষকদের কী কী সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে, কোন কোন কারণে শিক্ষার মান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেসব বিষয় চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছি।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেছেন, পরীক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু নকল প্রতিরোধ নয়, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে। সকল শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। প্রযুক্তি নির্ভর ক্লাস রুমে ক্লাস সম্পন্ন করবে শিক্ষকরা।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০০১ সালের পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট পরিবর্তন করা হয়েছে। বাহির থেকে যদি কেউ সমস্যার সৃষ্টি করে তাদের সবার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে। পুলিশের বডি অন ক্যামরো রাখা হবে, কেউ জোরদারি করতে পারবে না। এছাড়া খাতা পরিবর্তন ও নম্বর বন্টনে অনিয়ম হলে সে ব্যাপারে আইন প্রণয়ন করা হবে। যে কোনো পরীক্ষার ফলাফর দুই মাসের মধ্যে ঘোষনা করা হবে এবং দুই বছরের কোর্স দুই বছরের মধ্যেই শেষ হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো সেশনজট থাকবে না।
ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন মন্তব্য করেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ যখন শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন তখন নকলের ছড়াছড়ি ছিল দেশজুড়ে। শিক্ষকদের প্রতি নির্দেশনা ছিল খাতা ভরলেই নম্বর দিয়ে দেওয়ার। কিন্তু এখন আর সেটা হচ্ছে না। মেধা দিয়ে পাস করতে হবে। সেই সব দিন ভুলে যেতে হবে।
সভায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মতবিনিময়সভায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বিভাগীয় কমিশনার খলিলুল আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল ২ আসনের সংসদ সদস্য এস এম সরফুদ্দিন সন্টু, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মামুন উর রশিদের আমন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেছেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ৫০ একর জমি রয়েছে, সেটিকে ১০০ একরে রুপান্তর করতে সরকার আন্তরিক। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথেও কথা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে যদি ৫০ একর জমি অধিগ্রহণের সুযোগ না থাকে তাহলে অন্যত্র ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস করা হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে অভাবনীয় বাজেট দিয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিক। আমি সংকটগুলো এখান থেকে জেনে গেলাম, বিষয়গুলো নিয়ে আমি কাজ করব।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় শিক্ষামন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। এ সময় বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনও উপস্থিত ছিলেন।




