ট্রাকের ধাক্কায় ‘প্রাণহানির খবরে’ চালককে পিটিয়ে হত্যা

ছবি: আগামীর সময়
বেপরোয়া গতির ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২০ জন। এমন খবর ছড়ালো ফেসবুকে পোস্ট হওয়া এক ভিডিওতে। এরইমধ্যে লোকমুখে এলাকায় চাউর এ তথ্য। উত্তেজিত লোকজন ট্রাক আটকে পিটিয়ে হত্যা করল চালককে। মারধরে গুরুতর আহত দুই হেলপার। তবে ২০ জন নিহতের কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।
ফরিদপুরের নগরকান্দায় শুক্রবার রাতের ঘটনা এটি। নিশ্চিত করেছেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ।
নিহত ট্রাকচালক হলেন মো. হান্নান শেখ (৪৫)। তার বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগেই মারা গেছেন হান্নানের স্ত্রী। তাদের তিন বছরের সন্তান এখন এতিম।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে ঘটনার একটি বিবরণ। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সালথা বাজার থেকে রসুলপুর হয়ে সদরের দিকে যাচ্ছিল ট্রাকটি। পথে গট্টি, রসুলপুরসহ আশপাশের এলাকায় একাধিক পথচারীকে এটি ধাক্কা দেয় বলে জানতে পারেন স্থানীয়রা। মোটরসাইকেলে কয়েকজন ধাওয়া দিলে ট্রাকটি তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া নতুন হাটখোলা এলাকায় একটি দোকানে গিয়ে ধাক্কা দেয়।
ততক্ষণে লোকমুখে ও ফেসবুকে দেয়া সেই ভিডিওতে প্রচার হয়, ২০ জনকে পিষ্ট করে এসেছে ট্রাকটি। উত্তেজিত লোকজন দোকানের সামনে ট্রাকচালক ও দুই হেল্পারকে মারধর করে।
ঘটনাস্থলে ছুটে যান নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানি এবং তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আহতদের পাঠান ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে মারা যান ট্রাকচালক হান্নান। দুই হেলপার সেখানে চিকিৎসাধীন।
ট্রাকের ধাক্বায় আহত কয়েকজন স্থানীয় হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছে বলে শুনেছেন তালমা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া। জানেন না তাদের পরিচয়। ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। এর আগেই জনতা তিনজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ট্রাকের ধাক্কায় কেউ নিহত হয়নি, তবে কয়েকজন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। ফেসবুকে গুজবের কারণে এসব ঘটল।’
আহত ছয় থেকে সাতজনকে ফরিদপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানি।
এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসানের ভাষ্য, ‘কারা ফেসবুকে লাইভ চালিয়েছিল, সেই বিষয়গুলো নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত কয়েকজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সব বিষয় নিয়েই তদন্ত করছি। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দেয়া হয়নি। এজাহার পেলেই মামলা নেওয়া হবে।’



