পশুতে ঠাসা শৈলকুপার হাট, নেই কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা

ছবি: আগামীর সময়
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পশুর হাটগুলোতে এবার রেকর্ড পরিমাণ গরু-ছাগল আমদানি হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও হাটে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় বেচাকেনা আশানুরূপ হচ্ছে না।
আজ মঙ্গলবার শৈলকুপার ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন প্রধান পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক পর্যন্ত গরুর সারি বিস্তৃত। ছোট, মাঝারি ও বড় সব ধরনের গরুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূত্রে থাকা কিছু মানুষ ছুটিতে বাড়ি ফিরে কোরবানির পশু কিনতে আসলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।
দেবতলা গ্রামের খামারি রহমত আলী অভিযোগ করেন, এক বছর ধরে বেশি দামে খাদ্য কিনে গরু লালন-পালন করেছেন। হাটে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থাকলেও ক্রেতা আসছে না, দামও জানতে চাইছে না। এতে ঋণ শোধ করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা আরেক খামারি জানান, ক্রেতারা প্রতি গরুতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কম দাম বলছেন। এই দামে বিক্রি করলে বড় ধরনের লোকসান হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
হাট সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলার ব্যাপারীরা এ হাটে পশু নিয়ে আসেন। তবে এবার তুলনামূলকভাবে বাইরের ব্যাপারীর উপস্থিতিও কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় এবার তাদের বাজেট সীমিত। ফলে কাঙ্ক্ষিত দামে পশু না পেলে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াই ক্রেতা সংকটের প্রধান কারণ। হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।






