জামালপুর
তেল সংকটে উদ্বেগে কৃষক

ছবি: আগামীর সময়
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সারা দেশের মতো জ্বালানি সংকটে জামালপুর। তেলের জন্য বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে, লাইনে দাঁড়িয়ে চিঁড়েচ্যাপ্টা ডিজেলচালিত সেচপাম্পের কৃষক। হাজার হাজার হেক্টর ধানক্ষেতে সেচ দেওয়া নিয়ে উৎকণ্ঠায় তারা। তপ্ত রোদে পানি পুরোপুরি শুকিয়ে ধানক্ষেত ফেটে চৌচির। একই অবস্থা সবজি চাষিদেরও।
সম্প্রতি জেলা শহরের বিভিন্ন পেট্রল পাম্প, ডিলার পয়েন্ট ও বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, তেলের তীব্র সংকট ও কৃষকদের এমন দুর্ভোগ।
শহরের পেট্রল পাম্পগুলোতে শত শত কৃষকের দীর্ঘ লাইন। রোদে পুড়ে কেউ হাতে নিয়ে আছেন তেলের ট্যাংকি, কেউ বোতল। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ডিজেল। দাঁড়িয়ে আছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
ইতোমধ্যে ‘তেল নেই সাইন বোর্ড’ ঝুলিয়ে দিয়েছে অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ, যা আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে কৃষকদের।
এরই মধ্যে চোখে পড়ল পিটিআই এলাকার ডিলার পয়েন্টে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন অনেক কৃষক। এদের মধ্যে একজন সুরুজ ফকির (৫৬)। তার বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের বগারচর গ্রামে।
তিনি জানান, ডিজেলের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছেন গভীর রাতে। ফজরের নামাজ পড়েছেন শহরের বামুনপাড়ার মসজিদে। তেল নেই খুচরা দোকানে। তেল নিতে হয় শহরের ডিলার পয়েন্টে বা পেট্রল পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে।
এ সময় হামিদ নামের আরেক কৃষকের ভাষ্য, ‘অনেক সময় সারাদিন দাঁড়িয়েও মিলে না তেল। বোরো ধান আবাদ করেছি তিন বিঘা জমিতে। পানি দিতে হয় ২-১ দিন পরপরই। তেল লাগে ৪ থেকে ৫ লিটার। পানি দিছি ৩ দিন আগে। ক্ষেত গেছে শুকিয়ে। ক্ষেতের শেষ মাথায় পানি পৌঁছার আগেই শেষ হয়ে যায় তেল। এখন জমিতে পানি বেশি দরকার, কিন্তু দিতে পারছি না তেলের অভাবে।’
এমন সংকট জেলাজুড়ে। এভাবে আর কয়েকদিন সেচ দিতে না পারলে বোরো আবাদে বড় ক্ষতির আশঙ্কা কৃষকদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছিল প্রায় ২ লাখ হেক্টর। এরমধ্যে বোরো চাষ হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ হেক্টর জমিতে। এখন ধানের থোড় বা শীষ বের হওয়ার মোক্ষম সময়। এ সময় পর্যাপ্ত পানি না দিতে পারলে ঝুঁকি রয়েছে ধান চিটা হওয়ার।
জেলা সদরসহ ৭টি উপজেলায় সেচপাম্প বা শ্যালোমেশিন রয়েছে ৫৩ হাজার ৩৬৮টি। এরমধ্যে ২৮ হাজার ১০৩টি সেচপাম্প ডিজেলচালিত। এমন পাম্প দিয়ে ধান আবাদ করা হয়েছে ৫০ হাজার ৪০৬ হেক্টর জমিতে।
জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শরীফ আলম খান বলেছেন, প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষিজমি বিদ্যুৎচালিত সেচের আওতায়। এ সময় পর্যাপ্ত সেচ দরকার ধানক্ষেতে। কৃষক তাদের চাহিদামতো তেল পাচ্ছে না এমন প্রশ্নে তিনি বললেন, কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দিতে বলা হয়েছে পাম্প মালিকদের। সেচপাম্প মালিকরা যদি চাহিদামতো তেল না পান, তবে যোগাযোগ করবেন কৃষি অফিসে। এ ছাড়া মাঠে তদারকি করছেন আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। এতে আশা করি তেলের সংকট হবে না কৃষকের।’
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জ্বালানি তদারকি কমিটির আহ্বায়ক এ. কে এম আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ স্পষ্ট করেন, ‘ডিজেলের কোনো সংকট নেই। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার কৃষকদের। একটু সমস্যা হচ্ছে বাইকারদের চাপে। সেইজন্য আমরা দ্রুত চালু করতে যাচ্ছি ফুয়েল কার্ড।’
কোনো কৃষক ডিলার পয়েন্টে বা ফিলিং স্টেশনে ডিজেল নিতে গিয়ে হয়রানি শিকার হয়েছেন এমন অভিযোগ পেলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব, জানান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

