কৃষক সহায়তার তালিকায় কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রী ও ১৫ স্বজনের নাম

সংগৃহীত ছবি
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সরকারি সহায়তার তালিকায় মিলেছে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রী ও স্বজনদের নাম। হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সরকারের এই মানবিক সহায়তা। তাতে কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রী-স্বজনদের নাম ওঠায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
গত ৪ জুলাই পোগলা ইউনিয়নের পাবই গ্রামের ২৪ কৃষক সই করেন ওই লিখিত অভিযোগে। তাতে উল্লেখ করা হয় ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহিনুর আলমের কথা। বলা হয়, সরকারি সহায়তার তালিকা প্রণয়নের সময় নিজ পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন এই কর্মকর্তা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকার কৃষকদের জন্য নিয়মিত বিনামূল্যে সার, বীজ ও বিভিন্ন ধরনের কৃষি প্রণোদনা দিলেও তালিকায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে সেসব পৌঁছাচ্ছে না প্রকৃত কৃষকের হাতে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে, গত ১৭ জুন হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির সহায়তা একসঙ্গে বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক উপকারভোগীকে দেওয়া হয় ৬ হাজার টাকা ও ৩০ কেজি চাল।
তালিকায় পাওয়া গেছে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহিনুর আলমের স্ত্রী শাহিনুর আক্তারের নাম। তিনি স্বামীর নামের পরিবর্তে বাবার নাম আবু সিদ্দিক ব্যবহার করেছেন। শাহিনুর আলমের বড় ভাই রফিকুল আলমের স্ত্রী তৌহিদা খাতুনসহ তার নিকটাত্মীয় অন্তত ১৫ জনের নামও ওই তালিকায় পাওয়া গেছে।
বিষয়টি জানতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহিনুরকে একাধিকবার কল করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া বলেছেন, ‘শাহিনুর আলম কৃষি প্রণোদনার তালিকায় তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তার কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা প্রত্যাশা করি না।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের কথা, ‘পোগলা ইউনিয়নের তালিকায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুরের স্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি জেনেছি। ওই নামটি বাদ দিয়ে সেখানে প্রকৃত একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া অভিযুক্তকে লেংগুরায় বদলি করা হয়েছে।’
পোগলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। তদন্তে যদি কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যেন সরকারি সহায়তা পান, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’
অভিযোগ তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে- জানালেন ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




