বাবার মৃত্যুর শোক সামলে জিপিএ-৫ পেল ঋতু

ঋতু খাতুন। সংগৃহীত ছবি
বাবার মৃত্যু আর স্বজনদের আহাজারি — এমন এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মধ্যেও শক্ত হাতে কলম ধরেছিল অদম্য মেধাবী ঋতু খাতুন। শোক আর অভাব-অনটন কাটিয়ে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। গতকাল সোমবার ফল প্রকাশের পর ঋতুর এই অসাধারণ অর্জনে আবেগাপ্লুত তার পরিবার ও শিক্ষকরা।
ঋতু যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুনের ছোট মেয়ে। সে হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
ঋতুর পরিবারের সদস্যরা জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন ঋতুর বাবা। গত ১০ মে ঋতুর 'বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা' পরীক্ষা ছিল। ওইদিন ভোরে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মারা যান তার বাবা। পরীক্ষা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কায় ঋতুর মায়ের সিদ্ধান্তে তাকে বাবার মৃত্যুর খবরটি তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। চৌগাছা ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পরই বাবার মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষ করে ঘরে ফিরে বাবার মৃত্যুর সংবাদ পায় ঋতু। এরপর বাবা হারানোর শোক নিয়েই বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেয় সে।
কৃতিত্বপূর্ণ এ সাফল্যের পর ঋতুর ভাষ্য, বাবা বেঁচে থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।
বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি বাবার অনুপস্থিতিতে নিজের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথাও জানায় সে।
ঋতুর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাহানা খাতুন বলেছেন, ‘ঋতু অত্যন্ত মেধাবী। অসুস্থ বাবা আর চরম দারিদ্র্য— কোনো কিছুই তার সফলতার পথ আটকাতে পারেনি। বিত্তবানরা এগিয়ে এলে বা সরকারি বৃত্তির ব্যবস্থা হলে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।’
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম বললেন, ‘ঋতুর এই সাফল্য অত্যন্ত আনন্দের। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে।’





