‘এক শুক্রবারে গেল সৌদি, আরেক শুক্রবারে ফিরল লাশ’

সৌদিতে নিহত বগুড়ার শাহেদ আহম্মেদের কফিন
সৌদিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বগুড়ার আশিকের (৩২) মরদেহ দেশে ফিরেছে।
গত ১০ অক্টোবর হামলায় নিহত হওয়ার ১৩ দিন পর আজ শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে তার মরদেহ পৌঁছায় বগুড়ার শাজাহানপুরের মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামের বাড়িতে।
বাবার কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে তার দুই ছেলে কাউছার (১১) ও আবদুল্লাহ (৬)।
শাহেদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর আফসোস করে তার চাচা আয়নাল হোসেন বলেন, ‘ভাগ্যের কী পরিহাস! এক শুক্রবারে গেল সৌদিতে। আরেক শুক্রবারে এলো লাশ হয়ে।’
স্বজনরা জানান, সরকারি মাদলা চাচাইতারা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শাহেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
শাহেদের বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামে। তার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদি থাকেন। বাবার মাধ্যমে কয়েক বছর আগে সৌদি যান শাহেদও।
তবে অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে তিনি দুই বছর আগে দেশটিতে পাড়ি জমান। দুই মাস আগে ছুটিতে বাড়ি এসে গত ৯ অক্টোবর আবার সৌদির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কিন্তু কর্মস্থলে পৌঁছানোর পরদিনই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর সৌদির স্থানীয় সময় বিকাল পাঁচটার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান শাহেদ।
বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। সেটিই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা। এর কিছুক্ষণ পর ওই টার্মিনাল এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে শাহেদসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন।
শাহেদের সহপাঠী আফজাল হোসেন বলেন, ‘শাহেদ আমার ভাই হয়। আবার আমরা সহপাঠী ছিলাম। ৯ অক্টোবর শাহেদ সৌদিতে যায়। তার পরের দিন সে বিমানবন্দরে হামলায় নিহত হয়। আজকে বিকালে জানাজার পর শাহেদের দাদার কবরের পাশে দাফন করার ব্যবস্থা নিয়েছি আমরা। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন।’
শাহেদের মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন তার স্ত্রী কাকলী বেগম। শাহেদের মা তিন মাস আগে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি গিয়েছিলেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন তার বাবা রফিকুল ইসলাম। ছেলের মৃত্যুর পর তার মা দেশে ফিরলেও ভিসা জটিলতার কারণে এখনো দেশে আসতে পারেননি বাবা।
শাহেদের ফুফা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘ওকে আমি কোলে নিয়ে ঘুরেছি। শাহেদের বয়স বেশি না, ২৪ বছর হবে। কয়েক বছর হলো সে সৌদিতে গেছে তার বাবার মাধ্যমে। বাড়িতে ছোট দুটি ছেলেকে রেখে। বিমানবন্দরে হামলায় মারা যাওয়ায় তার স্ত্রী বিধবা হলো।’
শাহেদের মরদেহ বগুড়ায় পৌঁছানোর খবর পেয়ে জানাজায় উপস্থিত হন বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।



