উজানের ঢলে সিলেটে স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা

ছবি: আগামীর সময়
উজানে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ছে। যদিও এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা তথ্য অফিস প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর কানাইঘাট, আমলশিদ, শেওলা ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উজানে কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলের চাপ বেড়ে যাওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।
সম্ভাব্য বন্যা, পাহাড়ধস ও ভূমিধসের ঝুঁকি বিবেচনায় জেলা তথ্য অফিস সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত মাইকিং ও সড়ক প্রচারের মাধ্যমে বাসিন্দাদের প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলা তথ্য অফিসের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস বুলবুল জানান, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১৩টি উপজেলায় ৫৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজার ৩১৯ প্যাকেট শুকনো খাবার, এক হাজার ২৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য, ১৭৫ মেট্রিক টন জিআর চাল, ৪৮ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ১০ লাখ টাকা নগদ সহায়তা মজুদ রয়েছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে ৪১০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ১৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ১০৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ প্যাকেট খাবার স্যালাইন, ১ লাখ ৪২ হাজার ২০০টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১০ হাজার ২১৫ প্যাকেট কলেরা স্যালাইন, ১৭৬ ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনমসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী মজুদ রয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেছেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সিলেটে বন্যায় উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ ছাড়া জেলার কোথাও পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেনি। অতিবৃষ্টিজনিত কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সব দপ্তর সার্বক্ষণিক প্রস্তুত।




