মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিবাদ জামায়াতের ১১ এমপির

ছবি: আগামীর সময়
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়ার সঙ্গে কোনো অঞ্চলের উন্নয়নকে শর্তযুক্ত করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। রংপুরের মানুষ রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং কোন দলকে ভোট দেবেন, সেটি তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার।
মঙ্গলবার রাতে রংপুর নগরের জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রংপুর অঞ্চলের জামায়াতে ইসলামীর ১১ সংসদ সদস্য (এমপি)। তারা মির্জা ফখরুলের বক্তব্যকে রংপুরবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের প্রতি অসম্মানজনক উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে এমন ধারণা পাওয়া যায় যে রংপুরের মানুষ বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন পিছিয়ে থাকবে। এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জামায়াত নেতারা বলেছেন, জনগণ কোন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেবেন, সেটি তাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক অধিকার। কোনো সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের শর্ত হিসেবে ভোট দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা যায় না। দেশের সব অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। তাই কোনো অঞ্চলের মানুষ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করলে তাদের উন্নয়ন ব্যাহত হবে—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রংপুর দীর্ঘদিন ধরে দেশের তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোর একটি। এ অঞ্চলের মানুষ মন্ত্রীর কাছ থেকে রাজনৈতিক আনুগত্যের শর্ত নয়, বরং পিছিয়ে থাকা রংপুরকে এগিয়ে নিতে বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রত্যাশা করেন।
গত রবিবার রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে রংপুরের মানুষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তার ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াত নেতারা বলেন, রংপুরের মানুষ বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করায় উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকে—এমন বক্তব্য রংপুরবাসীর রাজনৈতিক অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘রংপুরের লোকেরা, আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি; যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’
জামায়াতের সংসদ সদস্যরা বলেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বা কোনো অঞ্চলের মানুষ কোন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেবেন, তা সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। জনগণের ভোট কোনো সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের শর্ত হতে পারে না। সরকার জনগণের জন্য, জনগণের করের অর্থে এবং রাষ্ট্রের আইন ও সংবিধানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
তারা আরও বললেন, কোনো অঞ্চলের মানুষ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করলে তাদের উন্নয়ন ব্যাহত হবে—এমন ধারণা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রংপুরবাসীর রাজনৈতিক অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখিয়ে মির্জা ফখরুল তার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন বলে তারা প্রত্যাশা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের রায়হান সিরাজী, গাইবান্ধা-১ আসনের মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ আসনের আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনের নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৫ আসনের আব্দুল ওয়ারেছ, নীলফামারী-১ আসনের আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ আসনের আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ আসনের ওবায়দুল্লাহ সালাফী ও নীলফামারী-৪ আসনের হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর শাখার আমির এ টি এম আজম খানসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




