ফরিদপুরে স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ চারজনের যাবজ্জীবন

তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: আগামীর সময়
ফরিদপুরের কানাইপুরে হাসান হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিশেষ জজ আদালত। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন।
একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মরদেহ গুম করার ঘটনায় ওই চারজনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি পূর্বের হাজাতবাসের সময়কাল কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক।
এসব তথ্য জানিয়েছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. আজিজুর রহমান।
দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের ফরিদা বেগম, ফারুক বিশ্বাস, চান্দু শেখ ও শাহজাহান মাতুব্বর। তাদের মধ্যে তিন আসামি আজ উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরে তাদেরকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ফরিদা পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৯ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজাহানের ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন ঝাউখোলা গ্রামের হাসান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের চার দিন পর ১৩ মে বিকালল ৪টার দিকে একই গ্রামের আজিজ খানের আখ ক্ষেতে কাজ করতে গিয়েই স্থানীয়রা দুর্গন্ধ পান। এরপর একটি বস্তার ভিতর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তারা।
আদালত জানিয়েছে, প্রাথমিক অবস্থায় মামলায় স্ত্রীর নাম ছিল না। পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে নিহতের স্ত্রী ফরিদার জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। ফরিদা একটি মিলে কাজ করতেন। তার বেতনের টাকা স্বামী হাসান নিয়ে যেতেন। পাশাপাশি স্ত্রীর সঙ্গে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জেনে যান হাসান। শাহজাহান মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হাসান তাদের পুলিশের কাছে দেওয়ার ভয় দেখাতেন। হাসানের স্ত্রীর প্ররোচণায় শাহজাহান তার সহযোগীদের নিয়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ একটি আখ ক্ষেতের মধ্যে গুম করে রাখেন।
আদালতের পিপি আজিজুর জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।




