মাধবপুর
ছাত্রলীগ নেতার বউভাতে একই ফ্রেমে আ. লীগ–বিএনপি নেতারা

ছবি: আগামীর সময়
রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন ধরে মুখোমুখি অবস্থানে থাকা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের এবার একসঙ্গে দেখা গেল একটি বউভাত অনুষ্ঠানে। একই ফ্রেমে দুদলের নেতাদের উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাধবপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
রবিবার (৩১ মে) উপজেলার মঙ্গলপুর গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদের ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা শান্ত ভূঁইয়ার বউভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরী, বিএনপি নেতা ফরিদুর রহমান, সোহেল মাহমুদ, আবদাল শাহ, মাধবপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাসাদ্দুক আহমেদসহ উভয় দলের একাধিক নেতাকে একসঙ্গে দেখা যায়।
অনুষ্ঠানের ছবি আওয়ামী লীগ নেতা ও শিক্ষক তাছাউদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা সোহেল মাহমুদসহ কয়েকজন তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের জায়গা থেকে একে অপরের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ সম্প্রীতির ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
তবে অন্য একটি অংশের ধারণা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন দৃশ্য অনেকের কাছেই বিস্ময়কর এবং এটি নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।
বাঘাসুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাজিদুর রহমান সজল আগামীর সময়কে বললেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের আগে মাধবপুরে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তারা এখন অনেকটাই মাইনাস। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী বর্তমানে বিএনপিতে চলে এসেছেন। এমনকি সংসদ সদস্যের উন্নয়ন কমিটিতেও আওয়ামী লীগের লোকজন স্থান পেয়েছেন। মাধবপুরে মিলেমিশে থাকা তাদের পুরনো রীতি। সাম্প্রতিক ঘটনাও তারই প্রতিফলন।
এদিকে বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, এটি ছিল সম্পূর্ণ সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সামাজিক সম্পর্কই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তাই ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে দেখার সুযোগ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা মন্তব্য করেন, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখা ঠিক হবে না। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণেই অনেকেই সেখানে গিয়েছেন।
বউভাতের আয়োজক ছাত্রলীগ নেতা শান্ত ভূঁইয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, তিনি বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন এবং সক্রিয় রাজনীতিতে তেমন সম্পৃক্ত নন।






