সময়ের আগেই বাজারে বেদানা লিচু, সুনাম নষ্টের আশঙ্কা

বেদানা লিচু
অতিরিক্ত লাভ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি এড়ানোর আশায় দিনাজপুরে সময়ের আগেই বাজারে চলে এসেছে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত ‘বেদানা’ লিচু। পবিত্র ঈদুল আজহার পর এই লিচু বাজারে আসার কথা থাকলেও অপরিপক্ব অবস্থায়ই তা বিক্রি শুরু করেছেন অনেক চাষি। ক্রেতারা চড়া দামে এই লিচু কিনলেও স্বাদ না পাওয়ায় বেদানা লিচুর ঐতিহ্যবাহী সুনাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন মূলত মাদ্রাজি জাতের লিচু বাজারে থাকার কথা এবং বেদানা লিচু পুরোদমে নামতে আরও ১২ থেকে ১৫ দিন সময় প্রয়োজন। কিন্তু মাদ্রাজি জাতের সঙ্গে বাজারে চলে এসেছে বোম্বাই ও বেদানা জাতের কাঁচা-পাকা লিচুও।
আজ বৃহস্পতিবার দিনাজপুর শহরের কালিতলার নিউমার্কেট ও ফলের হাট ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আধাপাকা মাদ্রাজি জাতের লিচুর ছড়াছড়ি। সেখানে আকারভেদে প্রতি হাজার মাদ্রাজি লিচু বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকায়। অন্যদিকে অপরিপক্ব হলেও বেদানা লিচু প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চড়া দামে।
কালিতলা ফল মার্কেটে লিচু বিক্রি করতে আসা চাষি আকবর জানালেন, এবার গাছে লিচুর ফলন বেশ ভালোই এসেছে। কিন্তু লিচুতে রং আসার পরপরই প্রথমে প্রচণ্ড দাবদাহ এবং পরে লাগাতার বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে ফল ঝরে পড়ছে। তাই বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে পরিপক্ব লিচুর সঙ্গেই অপরিপক্ব লিচু বাজারে এনে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
বাজারের ইজারাদার মো. শাহীন মন্তব্য করেন, মাদ্রাজি লিচু নামার সঠিক সময় হলেও তারও ৮-১০ দিন আগেই বাজারে অপরিপক্ব বেদানা লিচু চলে এসেছে। তবে ঈদের পরে এই ফলের হাট পুরোপুরি লিচুতে ভরপুর হয়ে উঠবে এবং তখন প্রতিদিন এই হাটে কোটি টাকার লিচু কেনাবেচা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় ৫ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলা মিলিয়ে মোট ১০ হাজার ৬৬টি লিচু বাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে এ বছর ৩৭ হাজার ৫০০ টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সরকারি হিসাবে যার বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় হাজার কোটি টাকা।
সার্বিক বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অতিরিক্ত লাভের আশায় কিছু চাষি সময়ের আগেই বেদানা জাতের লিচু বাজারে তুলছেন। এতে জিআই পণ্য হিসেবে আমাদের বেদানা লিচুর যে সুনাম রয়েছে, তা নষ্ট হচ্ছে। কারণ ভোক্তারা অনেক চড়া দাম দিয়ে লিচু কিনলেও অপরিপক্ব হওয়ায় বেদানা লিচুর আসল স্বাদটা পাচ্ছেন না। এই বিশ্বখ্যাত লিচুর আসল স্বাদ ও গুণাগুণ বজায় রাখতে এটি বাজারে আসার জন্য আরও অন্তত ১২ থেকে ১৫ দিন সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।




