প্রধান শিক্ষক নেই বাগেরহাটের ৬৭২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে বৈটপুব চিতলী সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়। ছবি: আগামীর সময়
প্রধান শিক্ষকের সংকট দেখা দিয়েছে বাগেরহাটের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয়। জেলার ৯টি উপজেলায় ১ হাজার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৭২টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অর্থাৎ জেলার অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয় চলছে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। এর মধ্যে ১৮৮টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে প্রধান শিক্ষকের কাজ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ১২৫টি বিদ্যালয়ে পদ শূন্য আছে প্রধান শিক্ষকের। রামপালে ৯২টি, বাগেরহাট সদরে ৮৫টি, শরণখোলায় ৮৩টি, মোল্লাহাটে ৭০টি, চিতলমারীতে ৬৭টি, মোংলায় ৫৪টি, ফকিরহাটে ৫০টি এবং কচুয়ায় ৪৬টি বিদ্যালয়ে এ পদ শূন্য রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও সামলাতে হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের। এতে তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে এবং পাঠদানে প্রয়োজনীয় সময় ও মনোযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ২৮১ নাম্বার পূর্ব বারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানম জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে প্রায় ৯৬ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাকেও নিয়মিত ক্লাস নিতে হচ্ছে।
রাবেয়া খানম আরও জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক থাকলে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজগুলো তিনি দেখভাল করতে পারতেন। তখন অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারতেন। এখন অফিসের কাজ সামলানোর পাশাপাশি ক্লাস নিতে হচ্ছে, ফলে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জানিয়েছে, তাদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। শিক্ষকরাই ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি স্কুলের বিভিন্ন কাজ করেন। প্রধান শিক্ষক থাকলে শিক্ষকরা পড়াশোনায় আরও বেশি সময় দিতে পারবেন। দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক দেওয়ার দাবি তার।
অভিভাবক পলাশ শেখ বললেন, শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে পড়ালেও প্রধান শিক্ষক না থাকায় তাদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়ছে। দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে অনেক সময় তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরীন আকতার জানিয়েছেন, জেলায় প্রধান শিক্ষকের বেশকিছু পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্যদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণের দাবি জানিয়েছেন।







