গ্রামের বাড়িতে বৃষ্টির মরদেহ, আসরের পর জানাজা

ছবি: আগামীর সময়
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লোরিডায় হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির (২৬) মরদেহ মাদারীপুরে তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। আজ শনিবার (৯ মে) দুপুর সোয়া ১টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে পৌঁছায় মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স। বৃষ্টিকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় তার বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন দুই যুগের বেশি সময় ধরে পরিবার নিয়ে থাকেন রাজধানীর মিরপুরে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত। দুই ভাই-বোনের মধ্যে বৃষ্টি ছোট। তিনি ফ্লোরিডার টাম্পায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন।
এদিকে মরদেহ দেশে পাঠানোর আগে গত বুধবার স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় যুক্তরাষ্ট্রের টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭ মে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে করে বৃষ্টির মরদেহ পাঠানো হয়। দুবাইয়ে বিরতি ও ফ্লাইট পরিবর্তনের পর ৯ মে সকাল ৮টা ৪০ দিকে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে সকল কার্যক্রম শেষে দুপুরের দিকে পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে রওনা দেওয়া হয় গ্রামে বাড়ির উদ্দেশে।
পরিবার জানায়, আজ শনিবার (৯ মে) আসরের নামাজের পর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির জানাজা হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।
বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন আজ দুপুরে আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পুলিশ বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ গলিত ও বস্তাবন্দী ছিল বলে তারা জানিয়েছে। মরদেহ কীভাবে, কতটুকু দৃশ্যমান রয়েছে, তা নিয়ে কিছু জানায়নি। মেয়েটার মুখ শেষবারের মতো দেখতে পাবো কি না জানি না!’
বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন জানান, ‘পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হবে। আজকে এভাবে তার কবর দিতে হবে কখনো চিন্তাই করিনি। সামনে কোরবানির ঈদ। ঈদ আসলেই সে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসতো, আনন্দ করত। আর ঈদে আনন্দ করা হলো না আমার। এই ঈদের আনন্দ বদলে কবরের কাজ চলছে’, যোগ করেন তিনি।




