বন্যায় পেঁপে গাছে পচন, ২০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে বাদশা

ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার মৌলভীরচর এলাকার নুরুল আবছার বাদশা (৩৮)। চার একর জমিতে পেঁপে বাগান করেছিলেন। গাছের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ঝুলে আছে বিভিন্ন আকারের কাঁচা-পাকা পেঁপে। ক্ষেত জুড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুল আর পেঁপে।
ভালো ফলন হওয়ায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন। পেঁপে বিক্রির জন্য বাদশা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কবলে পড়ে কক্সবাজারের চকরিয়া।
এক দিনের ব্যবধানে বাদশার বাগানে সব পেঁপে গাছের গোড়ায় পানি জমে গাছ মরে যায়। কীভাবে এই ক্ষতি পোষাবেন, কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বাদশার। পেঁপে ছাড়াও তিনি বাগানে কলা, তিত করলা, শসা ও বরবটি চাষ করেছেন। শুধু কৃষক বাদশার একার নয়, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যায় সব পেঁপেচাষি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
জমি বর্গা ও সার-বিষ কিনতে তার করতে হয়েছে ধারদেনা। সরকারি প্রণোদনা না পেলে এসব চাষি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
নুরুল আবছার বাদশা ব্যাখ্যা করেন, ‘বাগানে ফলন আসা তিন জাতের ১৬০০টি পেঁপে গাছ আছে। সবগুলো গাছে ভালো ফলন এসেছে। বিক্রি উপযোগী হয়েছে। আড়তদারের সঙ্গে দরদামও ঠিকঠাক হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৩০০টি রোপণ করা চারাগাছ মারা গেছে। বন্যার পানিতে ৮০০টির বেশি পরিপক্ব কলাগাছ ভেঙে গেছে। ১ একর তিত করলা, বরবটি ৪০ শতক ও ৮০ শতক জমিতে শসা চাষ করেছিলাম। ক্ষেত থেকে সবজি তোলা শুরু করেছি, বন্যায় ক্ষেতের ৮০ শতাংশ গাছ মরে গেছে।’
এই কৃষক জানান, ‘বন্যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাব করলে হবে না। মাতামুহুরী নদী ভরাট হওয়ার কারণে প্রতিবছর বন্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা। একটি পেঁপেও বিক্রি করতে পারিনি। বাগান থেকে একটি পাকা পেঁপে নিজে বা পরিবারকে খাওয়াতে পারলেও অন্তত মনকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম।’
নুরুল আবছার বাদশা দাবি করেন, বন্যায় অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই বন্যা আমাকে একেবারে নিঃস্ব করে দিয়ে গেছে। কিছু লোকের কাছ থেকে ধারদেনা করেছিলাম। প্রতিদিনই তারা ফোন করছেন। এখন কী করব, এই চিন্তায় রাতে ঘুম পর্যন্ত হয় না।’
চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় ১৩ হাজার ৮৫৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৪ হাজার ১০৩ একর জমির আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেছেন, ‘বন্যায় চকরিয়ায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পেঁপে ছাড়াও আমন, আউশ ও সবজির ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।




