একই পরিবারের চারজনসহ নিহত ৫
১০ বছর পর দেশে ফিরেও বাড়ি ফেরা হলো না আরিফুলের

ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘ ১০ বছর পর মালয়েশিয়া থেকে পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন আরিফুল ইসলাম (২৫)। তবে তার আর বাড়ি ফেরা হলো না। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে তাদের বহনকারী প্রাইভেট কারটি সজোরে ধাক্কা দিলে আরিফুলসহ একই পরিবারের চারজন এবং প্রাইভেট কারের চালকসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরিফুলের দুই ভাগনে-ভাগনি গুরুতর আহত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম আন্ডারপাসের কিছুটা আগে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফুল ইসলাম, তার মা নুরজাহান বেগম (৫০), বোন আয়েশা আক্তার (২৮), ভাই রাকিবুল ইসলাম (১৮) এবং প্রাইভেট কারের চালক জাহিদ হোসেন। চালক জাহিদ যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার গৌরপুর গ্রামের মো. ইসলামের ছেলে।
এই ঘটনায় আহত দুই শিশু আশরাফুল হোসেন (৮) ও তাসফিয়া (৩) নিহত আয়েশা আক্তারের সন্তান। তারা বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফুলকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে নিয়ে তারা সকলেই সোমবার (১ জুন) রাতে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। লাশ নিতে আসা পরিবারের স্বজন ইলিয়াস তাদের চরম কষ্টের কথা তুলে ধরে জানান, ‘দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন আরিফুল। গত সোমবার রাতে তিনি দেশে ফিরলে পরিবারের লোকজন তাকে এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে দুর্ঘটনার শিকার হয় তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটি। পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। আমি এই মুহূর্তে আপনাদের বলে বোঝাতে পারব না।’
হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভোররাতে মালিগ্রাম এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ওই ট্রাকটির পেছনে প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই চালকসহ চারজন নিহত হন এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি কেটে ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন। আহতদের প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাকিবুলকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবির এই তথ্য নিশ্চিত করে জানালেন, একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে আছে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর উদ্ধার অভিযানের বিবরণ দিয়ে জানান, ‘আমরা ভোরে খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাইভেটকার কেটে লাশগুলো বের করি।
শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘পরিবারের লোকজন পৌঁছানোর পর তাদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয় বিকালে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’




